রস+আলো

কর মওকুফের আবেদন

রফিক সাহেব অফিসে পৌঁছেই মনে মনে ভাবলেন, আজ বসের কাছে যে করেই হোক তাঁকে মনের কথাটা বলতেই হবে। ভাবতে ভাবতে মুখে রাজ্যের মায়া-মহব্বত জড়ো করে, কাঁচুমাচু মুখ নিয়ে বসের রুমে ঢুকে বললেন:-স্যার, একটা কথা ছিল!-একটাই কথা?-না মানে, কয়েকটাই…স্যার, আমি একজন নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ।-জানি তো।-দিন আনি, দিন খাই!-কী বললেন? আমরা কবে থেকে ডেইলি বেতন দিই? অ্যাকাউন্টসের লোককে ডাকেন তো! -না মানে, সেই অর্থে না। মাস আনি, প্রথম কয়েক দিনেই খেয়ে ফেলি আরকি!-তা-ই বলুন। তারপর?-তারপর স্যার, বউ-বাচ্চা নিয়ে চলতে খুব কষ্ট, খুউউব! ‘কেউ বোঝে না বুকের বেতা!’ বলেই রফিক সাহেব জিবে কামড় দিলেন। বসের সামনে এই ফটকা ডায়ালগ মুখ ফসকে কী করে বের হলো! বস কেমন চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছেন। কী মুসিবত!-না মানে স্যার, পাউরুটিরও দাম বেড়ে গেছে। আমি স্বল্প আয়ের মানুষ। প্রতি মাসে কয়টা টাকাই–বা পাই!-রফিক সাহেব, সামারিতে আসেন। মাজেজা কী বলেন?-স্যার, প্রতি মাসে বেতন থেকে আমার মূল্যবান ৬৬৬ টাকা আয়কর কেটে নিচ্ছে। এই টাকায় মাসে সাড়ে ৬৬টা শিঙাড়া/ ৬৭টা সমুচা/ ১৫০ টাকায় চার দিনের লাঞ্চ/ সাড়ে ষোলো দিনের নাশতা/ ১৩টা পঞ্চ, ৭ দিনের মেট্রোর ভাড়া/ ৮টা বার্গার/ ৩টা চিকেন বিরিয়ানি/ ৬৭ কাপ রং চা/ প্রায় ৪৪টা ডিম/ প্রায় ১৩৩টা কলা কেনা যায়!জীবনে অনেক রকম চেহারা রফিক সাহেব দেখেছেন। কিন্তু স্যারের এই মুহূর্তের ‘লুক’ কোনো কিছুর সঙ্গেই মিলছে না। স্যার কি রাগ করছেন, নাকি সহমর্মী হচ্ছেন—বোঝা যাচ্ছে না!-স্যার? স্যার?-অ্যা?…হ্যাঁ, বলুন বলুন।-বলছিলাম, ইয়ে মানে আমার আয়করটা মাফ করা যায় না? গরিবের পেটে ঘুষি নাহয় একটু না-ই মারলেন….আমার চিন্তা— রস+আলো
আমাকে সামলাতে
পারবে তো!
মিশা সওদাগর.লোডশেডিং .উত্তপ্ত কাঁচাবাজার.তড়িৎ উক্তি.স্যার তৎক্ষণাৎ কিছু বললেন না। তবে ইশারায় বোঝালেন, ব্যাপারটা নিয়ে ভাববেন।সেই রাতেই রফিক সাহেবের বস আমজাদ হোসেন তাঁর এমডিকে একটা ই-মেইল করলেন-‘স্যার, আমি গরিব মানুষ। মাস শেষে ১৬ হাজার ৬৬৬ টাকা ট্যাক্স কেটে নিয়ে যায়। এ টাকায় মাসে ৬টা বুফে ডিনার আর বউয়ের জন্য আড়ংয়ের কয়টা জামা কিনতে পারতাম। দরিদ্রের পেটের দিকে একবার দয়া দৃষ্টি দিয়ে করটা যদি মওকুফ করতেন!’আমজাদ সাহেবের ই-মেইল পেয়ে এমডি খানেক ভাবলেন-‘আচ্ছা, আমার হাত তো কম লম্বা নয়। ক্ষমতাও আছে হালকা! এই আইডিয়া আগে কেন আসেনি!’সঙ্গে সঙ্গে সহকারীকে ডেকে আমজাদ সাহেবের ই-মেইলের অনুকরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্দেশে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ চেয়ে চিঠি লেখালেন-‘স্যার, আমি গরিব মানুষ। আমার প্রতিষ্ঠানের এত টাকা কর আমি তো কিস্তিতেও দিতে পারব না! দরিদ্রের পেটের দিকে একবার দয়া দৃষ্টি দিয়ে করটা যদি মওকুফ করতেন!’.লম্বা হাত হোক কিংবা ক্ষমতার জৌলুশ, এমডি কর ম‌ওকুফ পেয়ে গেলেন। এই খুশির খবর ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। এদিকে রফিক সাহেবের পরের মাসেও কর কাটল ৬৬৬ টাকা, তাঁর বসের ১৬ হাজার ৬৬৬।এর মধ্যেই দেশে সরকার পালাবদল হলো। নতুন সরকার এসে পুরোনো হিসাব-নিকাশ ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করল। আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল, এমডির ম‌ওকুফ হ‌ওয়া ৬৬৬ কোটি কর দিতেই হবে।‘আরে! এই দেশে কি দুর্বলের ওপর চাপ আর কমবে না?’ স্বগতোক্তি করে হুংকার ছাড়লেন এমডি, ‘আপিল করব, উচ্চ আদালতে যাব! সবচেয়ে বড় উকিল হায়ার করব, পাল্টা মামলা করব, বছরের পর বছর কেস চালিয়ে যাব, যত টাকা লাগবে দেব, প্রয়োজনে ৬৬৭ কোটি খরচ করে হলেও এমন অন্যায় মেনে নেব না, এর শেষ দেখে ছাড়ব! গরিবের ওপর অত্যাচার…???’এদিকে ফি–মাসান্তে পে স্লিপ হাতে মন খারাপ হয় রফিক, আমজাদ সাহেবের। কয়টা বার্গার, সামান্য বুফে, একটু এক্সট্রা আড়ংয়ের যৌক্তিক দাবির বিনিময়ে এমডির মতো তাঁদের‌ও আইনের পথে হাঁটতে ইচ্ছা হয়‌। আক্ষেপ নিয়ে রফিক সাহেব ফেসবুকে পোস্ট দেন, ‘কোনো উকিল কি আছেন, যিনি নিজের ফি মওকুফ করে কর মওকুফে আমায় এমনভাবে মওকুফ করাতে পারবেন, যাতে আর কোনো সরকার এসে আমার মওকুফও মওকুফ করতে না পারে?’.হরেক রকম মিঁয়াও.বিশ্বকাপের পর.রাষ্ট্রপতি নির্বাচন .সবজান্তা সমীপেষু.রসচিঠি.বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ.উগান্ডার রাষ্ট্রপতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

Source: https://www.prothomalo.com/fun/lc39ydyho8

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *