দূর পরবাস

বিদায়, জান্থি!

যেকোনো শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় নিজের ভেতরে একধরনের শূন্যতা কাজ করে। গ্রিসের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর থেসালোনিকির নিকটবর্তী ছোট্ট জান্থি শহর ছেড়ে আসার সময়ও তার ব্যতিক্রম হলো না। হোক ক্ষুদ্র এ জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কিছু মুহূর্ত, তারই–বা মূল্য কম কিসে?উঁচু–নিচু পাহাড়-পর্বত ছেড়ে বিমান তখন বায়ুমণ্ডলের একের পর এক স্তর ভেদ করে ওপরে উঠতে ব্যস্ত। আর অলস মন তখন ভাবতে বসে কেন এমন মনে হয়। অজস্র চিন্তা জড়ো হতে শুরু করে। উত্তর নেই জেনেও ভাবনার পালে হাওয়া দিই। সত্যিই তো, এ শূন্যতাবোধের উৎস কী?.হয়তো মনে হয়, আর কি কখনো দেখা হবে?সম্ভবত হবে না। বেশির ভাগ জায়গাতেই বারবার আসা হয় না, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। কিছুদিন পরে আবার সেই পুরোনো জীবনে ফিরে গেলে ভুলেও যাব, ফিকে হয়ে যাবে একই শহর আবার দেখার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু নিজের ভেতরে ‘কিছু একটা’ থেকে যায়, থেকে যাবে। নিছক ‘অভিজ্ঞতা’ শব্দ দিয়ে সেই অনুভূতিকে ব্যাখ্যা করা যায় না। আর এমন ‘কিছু একটা’ বোধগুলোকে আঁকড়ে ধরেই আমরা বড় হই, বুড়ো হই, আর একদিন চলে যাই।কিংবা হয়তো সবই নিছক মায়া।থাকতে আসিনি, তবু শত বছরের পুরোনো সরু রাস্তা, গির্জা, খোলা চত্বর, স্থির জীবন, খানিক ব্যস্ত কফি শপ আর বেকারি, মোড়ে মোড়ে নিজ দেশের মতো অলস সময় কাটানো কৌতূহলী মানুষ, অসাধারণ আতিথেয়তা, কিছু বন্ধুত্ব—মায়ায় পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কি? পরিব্রাজক মুনি কোনো স্থানে তিন দিনের বেশি থাকেন না, মায়া পড়ে যাবে বলে। আমি মামুলি এক মানুষ, তার ওপর ছিলাম চার দিন!আবার এ–ও হতে পারে, এই সামান্য বিচ্ছেদের ঘটনায় টান পড়ে জীবনের ছোট–বড় সব বিচ্ছেদের ভান্ডারে।.যে জাদু প্রতিদিনের.এই যে বাসে করে ফিরে যাচ্ছি, কিছু স্মৃতি জীবনের পকেটে সঞ্চয় করে—এ বিচ্ছেদ তো কাঙ্ক্ষিত ও অনুমিতই ছিল। অথচ জীবনে কতশত বিচ্ছেদ আসে হুট করে, আগেভাগে জানান না দিয়ে, আর ভেঙে দিয়ে যায় ভেতরটাকে। কত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, না জেনেই যে এ জীবনে তার সঙ্গে আর কোনো দিন কথাই হবে না! ভীষণ গুরুত্বহীন এক দিনে একেবারেই সাধারণ এক বেলায় হয়তো কিছুটা অযত্নেই বলা ছিল সেই শব্দগুলো। ওই শেষ। বোকার মতো ভাবি, যদি জানতাম ওই কথাই হবে শেষ কথা, তাহলে কি আরেকটু বেশিক্ষণ কথা বলতাম? মানুষটাকে আর দুই মিনিট আটকে রাখতাম ভিডিও কলের ছোট্ট স্ক্রিনে? শেষে কী বলে রাখতাম ফোন?এর উত্তর জানি না, হয়তো কেউই জানে না—আর এ জন্যই সব বিদায়ের অধ্যায়ে উপসংহার থাকে না।.বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে যেমন যাচ্ছে দিন.জান্থি শহর দিয়েই শেষ করি। সম্মেলনের সুবাদে আয়োজক এবং অনেক অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে বেশ ভালো রকম পরিচয় হয়েছে। গ্রিকদের আতিথেয়তা নিয়ে জানা ছিল না, রীতিমতো বিস্মিত হতে হয়েছে। সম্মেলনে কতটুক শিখেছি জানি না, তবে অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়েছে এই মানুষগুলোর জন্য। গ্রিক খাবার, কফি, ইত্যাদির ১০১ থেকে শুরু করে গাড়ি ভাড়া, তেল নেওয়া, ট্রিপের পরিকল্পনা প্রভৃতি রীতিমতো হাতে ধরে শিখিয়ে দিয়েছে সব। কৃতজ্ঞ এই মানুষগুলোর প্রতি।ধন্যবাদ, জান্থি!.দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com.প্রবাসে পরীক্ষা যেমন

Source: https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/k2hn7zwscr

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *