জেলা

৬ ছেলের পাকা বাড়ি, তবু কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন মা

ছয় ছেলের প্রত্যেকেরই রয়েছে পাকা বসতবাড়ি। কিন্তু ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জয়নব ভানুর ঠাঁই হচ্ছিল না কারও ঘরেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেজ ছেলের ঘরে আশ্রয় পেলেন তিনি।জয়নব ভানু চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরা পূর্বপাড়ার মৃত সৈয়দ আহম্মেদের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন ওই গ্রামে গিয়ে এ বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেন।.স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে জয়নব ভানুর স্বামী মারা যান। চরম কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ছয় ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করে তোলেন তিনি। ছেলেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই পাকা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জয়নব ভানুকে ঘরে নিতে অস্বীকৃতি জানান ছেলেরা। গত রোববার কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরেন জয়নব ভানু। ছেলেদের ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও কোনো ছেলেই মাকে ঘরে নেননি।খবর পেয়ে মেয়ে ঝর্ণা বেগম এসে অসুস্থ মাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। একই গ্রামে ঝর্ণার শ্বশুরবাড়ি। .বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গতকাল বিকেলে ইউএনও মনিরা খাতুন কাদরা গ্রামে যান। পরে মেয়ে ঝর্ণা বেগমের বাড়ি থেকে জয়নব ভানুকে এনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক বসান। প্রায় দুই ঘণ্টার পারিবারিক সমঝোতা শেষে সৌদিপ্রবাসী সেজ ছেলে আনোয়ার হোসেনের বাসায় বৃদ্ধা জয়নব ভানুকে তুলে দেওয়া হয়।.শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছয় ছেলের পাকা ভবন থাকার পরও মায়ের জন্য একটি কক্ষে জায়গা হয়নি। আমরা পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তাঁকে সেজ ছেলের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরো বিষয়টি তদারকিতে রাখব। দুই মাস পর আমি নিজে এসে আবার তাঁর খোঁজ নেব। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে এ বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/tbqzd2q2fw

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *