জেলা

পূজার ছুটিতে পাহাড়, নদী, ঝরনা দেখতে পর্যটকদের ভিড়, মুখর খাগড়াছড়ি

নদী, পাহাড় আর ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। জেলার আলুটিলা, মায়াবিনী লেক, জেলা পরিষদ পার্কসহ সব পর্যটনকেন্দ্রই এখন পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর। খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙামাটির সাজেকেও যাচ্ছেন অনেক পর্যটক। ফলে পর্যটকদের উপস্থিতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির জেলা পরিষদ পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কজুড়ে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়। কেউ পার্কটিতে ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ বন্ধু বা স্বজনদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আড্ডায়। পার্কে কথা হয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক অন্তু দাশের সঙ্গে। তিনি জানান, এক দিনের সফরে তাঁরা কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে ভোরে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা, রিচাং ঝরনা ঘুরে বিকেলে খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম সড়কের পাশে অবস্থিত দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলো দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরবেন।.পার্কটির টিকিট বিক্রেতা মনতোষ ত্রিপুরার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার প্রায় ৭০০ পর্যটক পার্কটিতে প্রবেশ করেছেন। সাধারণত অন্য সময়ে দিনে দুই-তিন শ পর্যটক পার্কটিতে বেড়াতে আসেন।.আমাদের লাইনের বেশির ভাগ গাড়ি আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। প্রতিদিনই পর্যটকেরা আসছেন। গতকাল সকালেও প্রায় ১০০ গাড়ি সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। আজও একই সংখ্যক গাড়ি খাগড়াছড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা হয়েছে।সৈকত চাকমা, লাইনম্যান, খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতি.পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার থেকে পর্যটকেরা জিপ-পিকআপসহ পর্যটকবাহী বিভিন্ন গাড়ির আগাম বুকিং দিতে শুরু করেছেন। খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতির লাইনম্যান সৈকত চাকমা বলেন, ‘আমাদের লাইনের বেশির ভাগ গাড়ি আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। প্রতিদিনই পর্যটকেরা আসছেন। গতকাল সকালেও প্রায় ১০০ গাড়ি সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। আজও একই সংখ্যক গাড়ি খাগড়াছড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা হয়েছে।’পর্যটক বাড়ায় জেলার রেস্তোরাঁগুলোতে ব্যবসা জমে উঠেছে। খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরাঁর কর্মী আচিং মারমা বলেন, তাঁদের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিনই লোকজন আসছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে এত ভিড় হয়েছিল যে অনেক পর্যটককে জায়গা দিতে পারেননি। তাঁদের অনেকক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।.এদিকে পর্যটক বাড়লেও জেলা শহরের হোটেলগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম। হোটেল সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা অনেক পর্যটক ভোরে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে সরাসরি রাঙামাটির সাজেকের উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন দুপুরে সাজেক থেকে ফিরে বিকেলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে রাতের গাড়িতে আবার নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে পর্যটকদের বেশির ভাগই খাগড়াছড়িতে রাত যাপন করছেন না।খাগড়াছড়ি শহরের হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, তাঁদের হোটেলের অর্ধেকের বেশি কক্ষ আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। তবে দু-একটি বাদে অনেক হোটেলে পর্যটকের উপস্থিতি একেবারেই কম।খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, পূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে। পর্যটকেরাও যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরি করতে পারেন, তাঁরা যাতে কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/ml9o0leds6

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *