জেলা/উপজেলানারায়ণগঞ্জসারাদেশ

শিশুদের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ তাসফিন, প্রতি শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে চেম্বার

​​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ: শিশুদের জন্মগত হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা, পা বাঁকা, সেরিব্রাল পালসি, ব্র্যাকিয়াল প্লেক্সাস বার্থ পালসি এবং হাড় ভাঙাসহ বিভিন্ন অর্থোপেডিক সমস্যার চিকিৎসাসেবা দিতে নারায়ণগঞ্জে নিয়মিত রোগী দেখছেন শিশুদের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ তাসফিন। তিনি প্রতি শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করেন।

​আমাদের দেশে শিশুদের অর্থোপেডিক চিকিৎসার বিষয়টি তুলনামূলক নতুন একটি ধারণা। শিশুদের শরীরের অন্যান্য অংশের মতো হাড়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের হাড়ের গঠনগত প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বিশেষ পার্থক্য থাকে। তাই শিশুদের হাড় ভেঙে গেলে বা কোনো আঘাত পেলে তার চিকিৎসাপদ্ধতিও আলাদা। এছাড়া রয়েছে জন্মগত নানাবিধ ত্রুটি।

​বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি প্রতিবেশী ভারতেও শিশুদের অর্থোপেডিক সার্জনের সংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই হলেও সে তুলনায় বাংলাদেশে এই বিশেষজ্ঞের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ বিষয়ে দেশের বাইরে এক বছরের উচ্চতর ফেলোশিপ সম্পন্ন করা চিকিৎসকের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ৫-৬ জন, যাদের মধ্যে একজন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ তাসফিন। তিনি ২০২৪ সালে ভারত থেকে এই বিষয়ে ফেলোশিপ অর্জন করেন।

​জন্মগত পা বাঁকা ও হাড়-জয়েন্টের চিকিৎসা

​শিশুদের জন্মগত পা বাঁকা বা ‘ক্লাবফুট’ একটি পরিচিত অর্থোপেডিক সমস্যা। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই পায়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া শিশুদের হাঁটাচলায় অসুবিধা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠনগত ত্রুটি, জয়েন্টের সমস্যা কিংবা হাত-পায়ের নড়াচড়ায় জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। প্রয়োজনে প্লাস্টার, ব্রেস, ফিজিওথেরাপি/পুনর্বাসন কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।

​সেরিব্রাল পালসি ও জন্মকালীন স্নায়ুর আঘাত

​সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের পেশিতে অতিরিক্ত টান, ভারসাম্যহীনতা এবং দাঁড়ানো বা হাঁটার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ‘ব্র্যাকিয়াল প্লেক্সাস বার্থ পালসি’র কারণে জন্মের সময় স্নায়ুতে আঘাত পাওয়ায় শিশুর হাত বা বাহুর নড়াচড়ায় দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। এসব ক্ষেত্রে শিশুর সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন করে নিয়মিত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি এবং উপযুক্ত পুনর্বাসনসেবা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যথাসময়ে সুচিকিৎসা শিশুর চলাফেরা ও দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।

​শিশুদের হাড় ভাঙা ও অন্যান্য সমস্যা

​খেলাধুলা, আচমকা পড়ে যাওয়া কিংবা দুর্ঘটনার কারণে শিশুদের হাড় ভাঙতে পারে। শিশুদের হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিশেষ গঠন বিবেচনায় রেখে চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করা জরুরি। তাই কোনো আঘাত বা চলাফেরায় বাধা দেখা দিলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

​রোগী দেখার সময় ও যোগাযোগ

​শিশুদের বিভিন্ন জন্মগত ও অর্জিত অর্থোপেডিক সমস্যার সুচিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে অভিভাবকেরা প্রতি শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ তাসফিনের চেম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ নাম্বার: ০৯৬৬৬৭৮৭৮০৪।

​শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, সুস্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *