পদার্থবিজ্ঞান

নিউট্রিনো ধরার ফাঁদ তৈরি করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল

মহাবিশ্বে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যার শক্তি পৃথিবীর কোনো পরীক্ষাগারে তৈরি করা সম্ভব নয়। দূর মহাকাশের এসব ভয়ংকর শক্তিশালী ঘটনা থেকে ছুটে আসে নানা ধরনের কণা। সেগুলোর কোনোটি পৃথিবীতে পৌঁছায়, কোনোটি মহাজাগতিক ধুলা ও চৌম্বকক্ষেত্রে আটকে যায়। এমনই এক রহস্যময় কণা নিউট্রিনো। এই কণাকে ধরার জন্য পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে বরফের নিচে তৈরি হয়েছে এক বিশাল টেলিস্কোপ। নাম আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। এই যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দূর মহাবিশ্ব থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করেছেন। আর সেই কাজের ভিত্তি গড়ে দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।.টেলিস্কোপের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া আইসকিউব অবজারভেটরি.নিউট্রিনো কণাকে ধরার জন্য পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে বরফের নিচে তৈরি হয়েছে এক বিশাল টেলিস্কোপ। নাম আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি।.মহাবিশ্বের সবচেয়ে লাজুক কণানিউট্রিনো মহাবিশ্বের সবচেয়ে লাজুক কণাগুলোর একটি। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই, ভরও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া খুবই কম। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য থেকে আসা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি নিউট্রিনো আপনার একটি নখের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ আপনি টেরই পাচ্ছেন না।তবে এই লাজুক কণাগুলোই মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাগুলোর খবর আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কোথায় নক্ষত্র বিস্ফোরিত হচ্ছে, দূর মহাকাশের কোন সক্রিয় গ্যালাক্সিতে প্রচণ্ড শক্তির ঘটনা ঘটছে; এসবের সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে নিউট্রিনোর মধ্যে।নিউট্রিনোকে বোঝার জন্য আগে ভাবুন, মহাকাশ থেকে ক্রমাগত অসংখ্য কণা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে। এদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় মহাজাগতিক রশ্মি। সাধারণত এগুলো হয় প্রোটন। মহাকাশ থেকে আসা কিছু প্রোটনের শক্তি এত বেশি যে পৃথিবীর কোনো যন্ত্রের সাহায্যে এত শক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রোটনগুলো এত শক্তি পায় কোথায়?এটি মহাবিশ্বের দীর্ঘদিনের একটি বড় রহস্য। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম বলছে, যে ধরনের মহাজাগতিক প্রক্রিয়া প্রোটনকে এত বিপুল শক্তি দিতে পারে, একই প্রক্রিয়ায় উচ্চশক্তির নিউট্রিনোও তৈরি হওয়ার কথা। তাই উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারলে বিজ্ঞানীরা হয়তো বুঝতে পারবেন, মহাবিশ্বের কোথায় এসব অতি শক্তিশালী কণার জন্ম হচ্ছে।.ভুবন ভরা নিউট্রিনো, ধরতে গেলে নাই.সাধারণ পদার্থের সঙ্গে নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়া খুবই কম। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য থেকে আসা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি নিউট্রিনো আপনার একটি নখের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। অথচ আপনি টেরই পাচ্ছেন না।.এত লাজুক কণা ধরা যাবে কীভাবেসমস্যা হলো, নিউট্রিনো ধরা খুব কঠিন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয় থেকে নিউট্রিনো তৈরি হয়। সূর্য থেকেও অসংখ্য নিউট্রিনো আসে। মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করেও নিউট্রিনো তৈরি করে। ফলে কোনো একটি নিউট্রিনো শনাক্ত করলেই বলা যায় না, সেটি দূর মহাকাশ থেকে এসেছে।তাহলে উপায়? বিজ্ঞানীদের খুঁজতে হবে অনেক বেশি শক্তির এমন নিউট্রিনো, যেগুলো পৃথিবীর আশপাশের কোনো উৎস থেকে আসার কথা নয়।.সেগুলো হয়তো এসেছে অনেক দূরের কোনো ভয়ংকর মহাজাগতিক ঘটনা থেকে। হয়তো কোনো নক্ষত্র বিস্ফোরণ বা দূরবর্তী সক্রিয় গ্যালাক্সি থেকে।১৯৮০-এর দশকে ফ্রান্সিস হালজেন মহাজাগতিক কণা নিয়ে কাজ করছিলেন। তখন তিনি জানতে পারলেন, সোভিয়েত গবেষকেরা অ্যান্টার্কটিকায় রেডিও রিসিভার ব্যবহার করে নিউট্রিনো ধরার পরিকল্পনা করছেন। নিউট্রিনো খুব কমই কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। কিন্তু যখন এমন ধাক্কা খায়, তখন একটি বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকে রেডিও তরঙ্গ তৈরি হলে অ্যান্টেনার সাহায্যে তা শনাক্ত করা সম্ভব।.ভুতুড়ে কণা নিউট্রিনো.সূর্য থেকে অসংখ্য নিউট্রিনো আসে। মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করে নিউট্রিনো তৈরি করে। ফলে কোনো একটি নিউট্রিনো শনাক্ত করলেই বলা যায় না, সেটি দূর মহাকাশ থেকে এসেছে।.এই ধারণা হালজেনকে অনুপ্রাণিত করল। তাঁর মনে হলো, রেডিও তরঙ্গের বদলে বরফের ভেতর নিউট্রিনোর ধাক্কায় তৈরি আলো খুঁজে দেখা যায়। এর পেছনে ছিল আরও পুরোনো একটি ধারণা। ১৯৬০ সালের দিকে কয়েকজন পদার্থবিদ প্রস্তাব করেছিলেন, মহাকাশ থেকে আসা নিউট্রিনো ধরার জন্য পানি ভালো মাধ্যম হতে পারে। কারণ কোনো নিউট্রিনো যখন খুব বিরলভাবে কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয়। সেই কণা নিউট্রিনোর প্রায় একই দিকে ছুটতে থাকে এবং নীল আলো তৈরি করে। পানি স্বচ্ছ হওয়ায় সেই আলো শনাক্ত করা যায়। পানির পরিমাণ যত বেশি হবে, নিউট্রিনোর সঙ্গে পানির অণুর সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলোও তত বেশি ধরা পড়বে। সেই আলোর গতিপথ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, নিউট্রিনোটি কোন দিক থেকে এসেছিল।হালজেন ভাবলেন, পানি ব্যবহার না করে যদি প্রাকৃতিক বরফ ব্যবহার করা যায়? তিনি তাঁর সহকর্মী জন জি. লার্নেডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। লার্নেড তখন DUMAND নামে একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। সেটিও নিউট্রিনো শনাক্ত করার একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প তখন ছিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে। সেখানে একটি সমুদ্রের পানিতে নিউট্রিনোর সঙ্গে কণার সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলোর সংকেত ধরার পরিকল্পনা ছিল লার্নেডের।১৯৮৮ সালে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে হালজেন ও লার্নেড প্রথম দক্ষিণ মেরুর বরফে নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্র তৈরির ধারণা প্রকাশ করেন।.নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন.হালজেন তাঁর সহকর্মী জন জি. লার্নেডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। লার্নেড তখন DUMAND নামে একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। সেটিও নিউট্রিনো শনাক্ত করার একটি প্রকল্প।.বরফের রাজ্যেই কেন যেত হলোদক্ষিণ মেরুতে এমন একটি বিশাল গবেষণাগার বানানোর জন্য জায়গাটি বেছে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুবিধা ছিল। প্রথমত, সেখানে আগে থেকেই একটি গবেষণাকেন্দ্র ছিল। ফলে গবেষকদের যাতায়াত, সরঞ্জাম পরিবহন এবং কাজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কিছুটা তৈরি ছিল।দ্বিতীয়ত, বরফের বেশ গভীরে গেলে চারদিকে প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকার। সমুদ্রের পানির মতো সেখানে জীবন্ত প্রাণীর চলাচল নেই। তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরিমাণও কম। কিন্তু বরফ তো স্থির। গবেষকদের কাজ করার জন্য শক্ত একটি জায়গাও পাওয়া যায়। এলাকাটিও ভূতাত্ত্বিকভাবেও স্থিতিশীল, মানে ভূমিকম্পের সমস্যা নেই।.অবশ্য সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। দক্ষিণ মেরুর প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বছরের বড় একটা সময় সেখানে যাওয়া-আসা প্রায় অসম্ভব। তাই যন্ত্রপাতি বসানোসহ বেশির ভাগ কাজ করতে হয় অ্যান্টার্কটিকার অল্প সময়ের গ্রীষ্মে; মানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে।.বিগ ব্যাংয়ের পরে কিছু কণা কীভাবে টিকে গেল, সেই উত্তর দিতে পারে নিউট্রিনো.বরফের বেশ গভীরে গেলে চারদিকে প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকার। সমুদ্রের পানির মতো সেখানে জীবন্ত প্রাণীর চলাচল নেই। তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরিমাণও কম। কিন্তু বরফ তো স্থির।.এবার প্রশ্ন হলো, এত গভীর বরফের নিচে আলো শনাক্ত করার যন্ত্র বসানো হবে কীভাবে? গবেষকেরা হিমবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে জানলেন, গরম পানি ব্যবহার করে বরফ গলিয়ে কয়েক কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত গর্ত করা সম্ভব। অনেকটা অত্যাধুনিক শাওয়ারের মতো একটি ব্যবস্থা করে গরম পানি ছিটিয়ে বরফ গলানো হয়। গর্ত তৈরি হলে তার ভেতর দিয়ে নামানো হয় লম্বা তার। সেই তারের সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্বে একের পর এক আলো শনাক্তকারী সেন্সর বসানো থাকে।হালজেন এই সেন্সরগুলোকে মজা করে উল্টো বাল্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বাল্ব বিদ্যুৎ নিয়ে আলো তৈরি করে। আর এই যন্ত্র আলো ধরে সেটিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে। তবে প্রথমে সবকিছু এত সহজ ছিল না।গবেষকেরা গ্রিনল্যান্ডের বরফে পরীক্ষামূলকভাবে সেন্সর নামিয়ে দেখেছিলেন, বরফের ভেতর কণার সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলো শনাক্ত করা যায় কি না। এরপর তাঁরা দক্ষিণ মেরুতে প্রথম নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু করেন। এর নাম দেওয়া হয় আমান্ডা (AMANDA)।.কৃষ্ণগহ্বর থেকে নিউট্রিনো.প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার নিচের বরফ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ। নিউট্রিনোর সংঘর্ষে তৈরি আলোর ঝলক শোষিত হওয়ার আগে সেখানে প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত চলতে পারত।.বরফই যখন প্রধান বাধা১৯৯৩ সালের বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় হালজেন কম্পিউটার কোলে নিয়ে বসেছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন, কখন তাঁকে জানানো হবে যে প্রথম অপটিক্যাল মডিউলসহ তারটি বরফের নিচে ঠিকমতো বসানো হয়েছে। কিন্তু প্রথম ফলাফল হতাশাজনক ছিল। বরফের ওপরের অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র বুদ্‌বুদ ছিল। এগুলো আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। ফলে কণাগুলো কোন দিকে চলেছে, তার তথ্য ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল।তবে গবেষকেরা যত গভীরে গেলেন, ততই সমস্যা কমতে লাগল। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার নিচের বরফ ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ। নিউট্রিনোর সংঘর্ষে তৈরি আলোর ঝলক শোষিত হওয়ার আগে সেখানে প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত চলতে পারত। বিজ্ঞানীরা যতটা আশা করেছিলেন, এটি তার চেয়েও অনেক বেশি।এই প্রকল্পের আরেকটি লাভ হলো, বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গভীরতায় বরফের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলেন।.ভুতুড়ে কণা নিউট্রিনো শনাক্ত.প্রথম ফলাফল হতাশাজনক ছিল। বরফের ওপরের অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র বুদ্‌বুদ ছিল। এগুলো আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। ফলে কণাগুলো কোন দিকে চলেছে, তার তথ্য ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল।.আমান্ডা তৈরির কাজ চলতে থাকে ২০০০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। পর্যবেক্ষণকেন্দ্রটি ঠিকমতো কাজ করছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, মহাজাগতিক কণা ত্বরক থেকে আসা অত্যন্ত শক্তিশালী নিউট্রিনো শনাক্ত করার জন্য এটি যথেষ্ট বড় ছিল না। আরও অনেক বড় বরফের আয়তন দরকার। তখন শুরু হলো আইসকিউব তৈরির কাজ।নাম শুনেই ধারণা পাওয়া যায়, এটি বরফের একটি বিশাল ঘনক। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফের ভেতর বসানো হলো অসংখ্য আলো শনাক্তকারী সেন্সর। ২০১১ সালে আইসকিউব পূর্ণ আকার লাভ করে। তখন ৮৬টি তারের সঙ্গে মোট ৫ হাজার ১৬০টি আলো শনাক্তকারী সেন্সর বরফের নিচে বসানো হয়েছিল।.ভাবুন তো, পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফের নিচে হাজার হাজার সেন্সর বসানো আছে। তারা অপেক্ষা করছে এমন একটি ঘটনার জন্য, যা হয়তো কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো ভয়ংকর মহাজাগতিক জায়গায় ঘটেছে। কিন্তু সেই সংকেত খুব সহজে পাওয়া যায় না।.সূর্যের নিউট্রিনো সমস্যা.২০১১ সালে আইসকিউব পূর্ণ আকার লাভ করে। তখন ৮৬টি তারের সঙ্গে মোট ৫ হাজার ১৬০টি আলো শনাক্তকারী সেন্সর বরফের নিচে বসানো হয়েছিল।.হাজার চোখের অপেক্ষায় আলোর ঝলকআইস কিউবের ভেতর দিয়ে যেসব নিউট্রিনো যায়, তাদের বেশিরভাগই কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায় না। চলে যায় সোজা। শুধু অতি অল্প কয়েকটি নিউট্রিনো বরফের কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তখন তৈরি হয় আলো। আইসকিউবের সেন্সরগুলো সেই ক্ষীণ আলোর ঝলক ধরে।নিউট্রিনোর তিন ধরনের পরিচিত রূপ রয়েছে। ইলেকট্রন নিউট্রিনো ও টাউ নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে কণার একটি ঝরনা তৈরি হয়। সেই কণাগুলো চারপাশে আলো ছড়ায়। আর মিউন নিউট্রিনো সংঘর্ষ করলে শুধু কণার ঝরনাই তৈরি হয় না, একটি মিওয়নও তৈরি হয়। এই মিওয়ন বরফের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ ছুটতে পারে এবং যাওয়ার পথে আলোর একটি দীর্ঘ রেখা তৈরি করে।আইসকিউবের অপটিক্যাল মডিউলগুলো কাচের আবরণের ভেতর বসানো থাকে। সেন্সরটি থাকে নিচের দিকে মুখ করে। একই আবরণের মধ্যে এমন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাও থাকে, যা সংকেতকে প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে পরে তা ওপরে পাঠায়। অর্থাৎ বরফের নিচে হাজার হাজার ছোট ছোট চোখের মতো সেন্সর বসে আছে, যারা অপেক্ষা করছে নিউট্রিনোর সংঘর্ষে তৈরি একেকটি আলোর ঝলকের জন্য।.যে আবিষ্কারের কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী.নিউট্রিনোর তিন ধরনের পরিচিত রূপ রয়েছে। ইলেকট্রন নিউট্রিনো ও টাউ নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে কণার একটি ঝরনা তৈরি হয়। সেই কণাগুলো চারপাশে আলো ছড়ায়।.মহাজাগতিক নিউট্রিনো আর পৃথিবীর নিউট্রিনো আলাদা হবে কীভাবেতবে আইসকিউব তৈরি হলেই কাজ শেষ নয়। কারণ বিজ্ঞানীরা শুধু মহাকাশ থেকে আসা নিউট্রিনো খুঁজছেন না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা মহাজাগতিক রশ্মিও নানা ধরনের কণা তৈরি করে। সেগুলোও আইসকিউবের সেন্সর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রতি দিন অ্যান্টার্কটিকার ওপরের বায়ুমণ্ডল থেকে আসা ১০ কোটিরও বেশি এমন কণা আইসকিউবের সেন্সরে ধরা পড়ে।মহাজাগতিক রশ্মি আবার বায়ুমণ্ডলে নিউট্রিনোও তৈরি করে। এর মধ্যে কয়েক শ নিউট্রিনো প্রতিদিন উত্তর গোলার্ধ থেকে পৃথিবীর ভেতর দিয়ে এসে আইসকিউবে পৌঁছায়। তাহলে দূর মহাকাশের নিউট্রিনো আর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে তৈরি নিউট্রিনো আলাদা করা হবে কীভাবে?গবেষকদের বিভিন্ন ঘটনার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে হয়। কোনো নিউট্রিনো পৃথিবীর বাইরে থেকে এসেছে কি না, তা সব সময় নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয় না। কিন্তু অনেকগুলো ঘটনার তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য মহাজাগতিক নিউট্রিনোর প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে কি না।.অপটোজেনেটিকস আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী.মহাজাগতিক রশ্মি আবার বায়ুমণ্ডলে নিউট্রিনোও তৈরি করে। এর মধ্যে কয়েক শ নিউট্রিনো প্রতিদিন উত্তর গোলার্ধ থেকে পৃথিবীর ভেতর দিয়ে এসে আইসকিউবে পৌঁছায়।.অবশেষে মিলল মহাবিশ্বের বার্তা২০১৩ সালে গবেষকেরা প্রথম এমন প্রমাণ প্রকাশ করেন, যা দেখায় আইসকিউব সত্যিই মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করেছে। আর কয়েক বছর পর তাঁদের হাতে এত বেশি তথ্য জমা হয় যে, আবিষ্কারটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়।নিউট্রিনো দিয়ে মহাবিশ্ব দেখার ধারণা অবশ্য আইসকিউবের সঙ্গে শুরু হয়নি। ১৯৬০-এর দশকে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র সূর্য থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করেছিলেন। পরে জাপানের কামিওকান্দে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে মাসাতোশি কোশিবার নেতৃত্বাধীন গবেষকেরা নিউট্রিনোর গতিপথ নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। তাঁরা বুঝতে পারেন এগুলোর উৎস কোথায়।.১৯৮৭ সালে কামিওকান্দে এমন এক ঝাঁক নিউট্রিনো শনাক্ত করে। সেগুলোকে একটি বিস্ফোরিত নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সি লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউডে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নেও নিউট্রিনো পরিমাপ করা হয়েছিল। এই অগ্রগতির জন্য ২০০২ সালে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র ও মাসাতোশি কোশিবা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁদের কাজ দেখিয়েছিল, মহাকাশের বিভিন্ন ঘটনা বোঝার জন্য নিউট্রিনোকে ব্যবহার করা সম্ভব।.নোবেল পেতে কেমন লাগে.নিউট্রিনো দিয়ে মহাবিশ্ব দেখার ধারণা অবশ্য আইসকিউবের সঙ্গে শুরু হয়নি। ১৯৬০-এর দশকে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র সূর্য থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করেছিলেন।.সূর্যের নিউট্রিনো গেল কোথায়তবে তখনও একটি বড় রহস্য ছিল। বিজ্ঞানীদের হিসেবে সূর্য থেকে যত নিউট্রিনো আসার কথা, ডেভিসের যন্ত্রে তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধরা পড়ছিল। পরে জানা গেল, নিউট্রিনোর তিনটি ধরন রয়েছে এবং সেগুলো এক ধরনের থেকে আরেক ধরনের রূপ নিতে পারে। সূর্যে যে ধরনের নিউট্রিনো তৈরি হয়, পৃথিবীতে পৌঁছানোর সময় তার কিছু অন্য ধরনের নিউট্রিনোতে বদলে যেতে পারে।এই পরিবর্তন বোঝার জন্য ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন। জাপান ও কানাডার পরীক্ষায় নিউট্রিনোর এই রূপ বদলের বিষয়টি পরিষ্কার হয়। এই আবিষ্কারের জন্য ২০১৫ সালে তাকাকি কাজিতা ও আর্থার বি. ম্যাকডোনাল্ড পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।.রসায়ন নোবেলের অজানা ৫.কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো যদি দূর মহাকাশ থেকে আসে, তার গতিপথ মোটামুটি সোজাই থাকে। সেই পথ উল্টো করে অনুসরণ করলে বিজ্ঞানীরা তার উৎসের দিকে তাকাতে পারেন।.নিউট্রিনো এত গুরুত্বপূর্ণ কেনএখন আসা যাক, নিউট্রিনো নিয়ে এত আগ্রহের কারণ কী? মহাবিশ্বের কিছু বস্তু প্রচণ্ড পরিমাণ শক্তি ছড়িয়ে দেয়। এমন কিছু প্রক্রিয়া আছে, যেখানে কণাগুলো এত বেশি শক্তি পায়, যা পৃথিবীর পরীক্ষাগারে অর্জন করা সর্বোচ্চ শক্তির চেয়েও ১০ লাখ গুণ বেশি।এই ভয়ংকর শক্তিশালী ঘটনাগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের বিকিরণ ও কণা ছুটে আসে। সেগুলো যেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী ঘটনাগুলোর বার্তাবাহক। তাদের বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, মূল উৎসে কী ঘটেছিল। কিন্তু সব বার্তাবাহক সমান নয়। মহাজাগতিক রশ্মির সবচেয়ে সাধারণ কণাগুলো হলো প্রোটন। এগুলোর বৈদ্যুতিক চার্জ আছে। মহাকাশের চৌম্বকক্ষেত্র তাদের গতিপথ বাঁকিয়ে দেয়। ফলে কোনো প্রোটন কোন দিক থেকে এসেছে, তার পথ উল্টো করে অনুসরণ করে উৎসে পৌঁছানো কঠিন।.গামা রশ্মিরও সমস্যা আছে। এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী আলো। কিন্তু মহাকাশের পদার্থ ও অন্য আলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় গামা রশ্মি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মহাজাগতিক ধুলোও কোনো কোনো উৎসকে আড়াল করতে পারে।নিউট্রিনোর সুবিধা এখানেই। এর বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। তাই মহাকাশের চৌম্বকক্ষেত্র এর গতিপথ বাঁকাতে পারে না। আবার ধুলা বা বিকিরণও নিউট্রিনোকে সহজে থামাতে পারে না। অর্থাৎ, কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো যদি দূর মহাকাশ থেকে আসে, তার গতিপথ মোটামুটি সোজাই থাকে। সেই পথ উল্টো করে অনুসরণ করলে বিজ্ঞানীরা তার উৎসের দিকে তাকাতে পারেন।.নোবেল জেতার সহজ উপায়.গামা রশ্মিরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী আলো। কিন্তু মহাকাশের পদার্থ ও অন্য আলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় গামা রশ্মি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মহাজাগতিক ধুলোও কোনো কোনো উৎসকে আড়াল করতে পারে।.এই কারণেই নিউট্রিনোকে মহাবিশ্বের বিশেষ ধরনের বার্তাবাহক বলা হয়। এখানেই আছে আইসকিউবের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বিজ্ঞানীরা এমন জায়গা খুঁজতে চান, যেখানে মহাবিশ্বের কণাগুলো ভয়ংকর শক্তি পায়। প্রোটনকে যে প্রক্রিয়া এত শক্তিশালী করে তোলে, একই প্রক্রিয়ায় উচ্চশক্তির নিউট্রিনোও তৈরি হওয়ার কথা।চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে প্রোটনের পথ বাঁকতে পারে। কিন্তু নিউট্রিনোর পথ বাঁকে না। তাই উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর পথ অনুসরণ করে বিজ্ঞানীরা হয়তো মহাজাগতিক কণার সেই রহস্যময় ত্বরকগুলোর অবস্থান বের করতে পারবেন। নিউট্রিনো আমাদের সূর্যের ভেতরের প্রক্রিয়া এবং সুপারনোভার মতো নক্ষত্র বিস্ফোরণের ঘটনা বোঝাতেও সাহায্য করেছে।আইসকিউব এমন মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেতে চায়, যেগুলো ধুলোর মেঘের আড়ালে লুকিয়ে আছে, অথবা এত দূরে যে সেখান থেকে আসা অন্য ধরনের বিকিরণ পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই দুর্বল হয়ে গেছে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের এমন কিছু খবর নিউট্রিনো আমাদের দিতে পারে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া সম্ভব নয়।.আইসকিউব ইতিমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য নিউট্রিনো উৎসের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো সক্রিয় গ্যালাক্সি NGC 1068। একে আমরা বলি M77। আইসকিউবে শনাক্ত হওয়া নিউট্রিনোগুলোর মধ্যে ৭৯টি এই গ্যালাক্সির দিক থেকে এসেছে বলে মনে হয়। কিন্তু এতেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না, M77-ই ওই নিউট্রিনোগুলোর উৎস। আরও নিউট্রিনো শনাক্ত করতে হবে। যত বেশি নিউট্রিনো ধরা পড়বে, তত বেশি নির্ভুলভাবে তাদের গতিপথ ও উৎস বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসকিউব মিল্কিওয়ে থেকেও উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পেরেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের মধ্যে মহাজাগতিক বিকিরণ পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে এসব নিউট্রিনো তৈরি হতে পারে।.নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে.আইসকিউবে শনাক্ত হওয়া নিউট্রিনোগুলোর মধ্যে ৭৯টি এই গ্যালাক্সির দিক থেকে এসেছে বলে মনে হয়। কিন্তু এতেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না, M77-ই ওই নিউট্রিনোগুলোর উৎস।.আরও বড় বরফের ফাঁদনিউট্রিনো জ্যোতির্বিদ্যার ভবিষ্যৎ শুধু দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবে আটকে নেই। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আরও নিউট্রিনো টেলিস্কোপ তৈরির কাজ চলছে। উত্তর গোলার্ধেও এমন কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। তবে সেগুলো বরফের বদলে পানি ব্যবহার করছে।হালজেনকে যে প্রকল্পটি ১৯৮০-এর দশকে অনুপ্রাণিত করেছিল, সেই DUMAND প্রকল্প ১৯৯৫ সালে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা হারিয়ে যায়নি। সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বৈকাল হ্রদ, ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং কানাডার পশ্চিম উপকূলের কাছে আরও প্রকল্প শুরু হয়েছে। আর দক্ষিণ মেরুতে আইসকিউব এখনও নিউট্রিনো ধরছে।এর পরের ধাপ আরও বিশাল। আইসকিউব-জেন২ নামের এই দ্বিতীয় প্রজন্মের ডিটেক্টর তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর আয়তন হবে প্রায় ৮ ঘনকিলোমিটার বরফ। অর্থাৎ আজ যে বরফের নিচে হাজার হাজার সেন্সর মহাবিশ্বের ক্ষীণতম বার্তা ধরার অপেক্ষায় আছে, ভবিষ্যতে সেই অনুসন্ধানের পরিধি আরও অনেক বড় হবে।.আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার.হালজেনকে যে প্রকল্পটি ১৯৮০-এর দশকে অনুপ্রাণিত করেছিল, সেই DUMAND প্রকল্প ১৯৯৫ সালে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা হারিয়ে যায়নি।.অনেক কথা হলো। কিন্তু হালজেন কীভাবে এই গবেষণায় আগ্রহী হলেন? ফ্রান্সিস হালজেন বড় হয়েছেন বেলজিয়ামে। ১৯৬০-এর দশকে কণা পদার্থবিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি তাঁকে এই বিষয়ে আকৃষ্ট করে। শুরুতে তিনি কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি ভারী কণা নিয়ে কাজ করতেন। পিএইচডি শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনে চলে যান। পরে তিনি বুঝতে পারেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আসা কণাগুলোকে ব্যবহার করে কণা পদার্থবিজ্ঞান যেমন নতুন কিছু জানতে পারে, তেমনি কণা পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহার করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানও মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পেতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফে নিউট্রিনো ধরার স্বপ্ন।সেই স্বপ্ন ১৯৮০-এর দশকে একটি ধারণায় পরিণত হয়। ১৯৮৮ সালে বৈজ্ঞানিকভাবে উপস্থাপন করা হয় সেই ধারণা। ১৯৯০-এর দশকে শুরু হয় পরীক্ষামূলক কাজ। প্রথমে আমান্ডা, তারপর এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে আইসকিউব। অবশেষে ২০১৩ সালে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।প্রায় ৬৫ বছর আগে দেখা সেই স্বপ্ন ২০২৬ সালে হালজেনকে পাইয়ে দেয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল।সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গ.নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য

Source: https://www.bigganchinta.com/physics/znlljdz47p