ফুটবল

বিশ্বকাপের পর অবসরের কথা ভাবলেও কেন মত বদলালেন রোনালদো

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এ কথা আগেই জানিয়েছেন। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তাই শেষের দিকে, এমনটা ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের পর অবসরের কথা ভেবেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন রোনালদো।আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৪২ বছর পূর্ণ হতে যাওয়া এই তারকা কেন পর্তুগালের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন, তার কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন আজ। বৃহস্পতিবার রাতে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে ওয়েলশের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো জানান, দেশকে আরও সাফল্য এনে দেওয়া, এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়া এবং এবং নতুন প্রজন্মকে সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।.এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। এ নিয়ে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে রোনালদোকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন আরেকটি মৌসুম শুরুর আগে অবসর নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ‘সিআর সেভেন’ জানান, বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার কথা তিনি ভেবেছিলেন, ‘হ্যাঁ, ভেবেছিলাম। অবশ্যই আমি সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ, এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমি চিন্তাশীল মানুষ, ভাবতেই হয়।’.তবে ভাবনা শেষ পর্যন্ত অবসরের দিকে যায়নি। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট ও কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে কথা বলার পর রোনালদোর মনে হয়েছে, দলের জন্য এখনো তাঁর কিছু দেওয়ার আছে, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে যা অর্জন করতে চায়, সেখানে পৌঁছাতে সাহায্য করার সামর্থ্য আমার আছে।’পর্তুগালের হয়ে শুধু গোলে নয়, মাঠের বাইরেও অবদান রাখতে চান বলে জানান রোনালদো, ‘আমি শুধু গোল দিয়ে নয়, মাঠের বাইরেও জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে পারি।’.মেসি–রোনালদো কি সত্যিই একই দলে খেলবেন.বর্তমান পর্তুগাল দলে ফাবিও সিলভা, রেনাতো ভেইগা, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস ও ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের মতো তরুণেরা জায়গা করে নিচ্ছেন। রোনালদোর মতে, এই নতুন প্রজন্মের পাশে থেকে তাঁদের সাহায্য করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ, ‘এটি একটি নতুন তরুণ প্রজন্ম। তবে আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে থাকা, গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা।’রোনালদোর অবসর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত একটি লক্ষ্যও বড় ভূমিকা রেখেছে। ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে আর ২১ গোল প্রয়োজন রোনালদোর। জাতীয় দলের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মাইলফলককেও যে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন পর্তুগালের হয়ে ২৩৩ ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ড, ‘দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। এক হাজার গোল, হ্যাঁ। আর জাতীয় দলও। নেশনস লিগ শুরু হচ্ছে। এটি একটি নতুন যুগ।’.পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আ বোলা ওয়েলস ম্যাচ সামনে রেখে একটি জরিপ চালিয়েছে, যেখানে পাঠকদের তাঁদের নিজস্ব দল বাছাই করতে বলা হয়। সেই দলের শুরুর একাদশে রোনালদো জায়গা পাননি। কেউ কেউ এখন তাঁকে দলে না চাওয়া প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, ‘আমি এত বছর ধরে ফুটবল খেলছি, সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব জায়গাতেই আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। পর্তুগিজ সমর্থকেরা আমাকে ভালোবাসেন। তবে কিছু টিভি চ্যানেল আমার সমালোচনা করতে চায়, তারা আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তবে সেটা কেবল শটগান দিয়ে। তারা অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে যাতে আমি আর জাতীয় দলে না আসি; কিন্তু আমি এখনো সেই বাধা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।’পর্তুগাল–ওয়েলশ ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায়।.বিয়ে করে আর্জেন্টিনার ‘জামাই’ হলেন রোনালদো

Source: https://www.prothomalo.com/sports/football/zuoq9rt5ye

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *