আয়োজন

বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা—পর্ব: ২

অনেক দিন পর ছোটবেলার বন্ধুকে দেখতে পেয়ে নিহাদ ফিরে গেল শৈশবের সেই দিনগুলোতে। একসঙ্গে খেলা, প্রাইভেট পড়তে যাওয়া, ক্লাসে পড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা। প্রাইমারি জীবনের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে সবাই আলাদা আলাদা হাইস্কুলে ভর্তি হওয়া, সময়ের পরিবর্তনে একসময় অদিতির স্মৃতি চাপা পড়ে যায়, আজ আবার সেই অদিতিকে দেখে আগের কথা মনে পড়ে গেল, অদিতির সবকিছু বদলে গেলেও রাগটা এখনো আগের মতোই আছে। পরদিন ক্লাসে অদিতি ছাতা হাতে নিহাদের দিকে এগিয়ে আসে। অদিতি: তোমার ছাতাটা। নিহাদ: থ্যাংকস…তুমি!! -হুম, একই ক্লাসে পড়ছি যখন, তুমি বলতে প্রবলেম কী? -প্রবলেম নেই, তুমি কি আজকেই ভর্তি হয়েছ? -নাহ, ওরিয়েন্টশন ক্লাসে আসতে পারিনি। -ওহ! যা–ই হোক, আজকে ছাতা এনেছ? -হুম। (অদিতি মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়।).নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com.তারপর একসঙ্গে প্রাইভেট, কোচিং, ক্লাস—সবকিছু যেন সেই আগের মতোই চলতে লাগল, মজার ব্যাপার হলো, অদিতি এখনো নিহাদকে চিনতে পারেনি। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়।ছুটির দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে ক্যাম্পাসের বকুলতলায়।নিহাদ: আচ্ছা, আমি যা দেখি, তুমি কি তা দেখো?অদিতি: তুমি কী দেখো?-আমি দেখি, তোমার ওই চোখে আমার পৃথিবী, অসীম মমতা, একটু লাজুকতা আর মিষ্টি চাহনি।-চোখ তো চোখই, চোখে এসব দেখার কী আছে?কিছুক্ষণ পর…-আচ্ছা আমি যা দেখি, তুমি কি তা দেখো?-কী দেখো?-আমি দেখি তোমার মুখের মিষ্টি হাসি, আর ঠোঁটের নিচের তিল, আর মেকাপের ওপর জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম। আর দেখি…-থামো, আর বলতে হবে না।অদিতির রাগের কণ্ঠ শুনে নিহাদ কিছুক্ষণ চুপ করে আবার বলে…-আচ্ছা আমি যা দেখি…-কী দেখো তাড়াতাড়ি বলো, এত ভাব করে বলতে হবে না।.বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা—পর্ব: ১.অদিতির চোখে আরও বিরক্তি দেখে নিহাদ এবার প্রকৃতির আশ্রয় নেয়।-আমি দেখি ওই নীল আকাশ। সেখানে দেখি মেঘেদের আনাগোনা, তাদের একেকটা রূপে আকাশের ক্যানভাসে এঁকে চলে নানা প্রতিকৃতি।-আকাশ তো আকাশই, এভাবে আকাশ দেখার কী আছে?এবার হাল ছেড়ে দিয়ে নিহাদ চুপ করে রইল।- কী ব্যাপার, চুপ করে আছ কেন? এই নিহাদ…(ধাক্কা দিতে দিতে বলল অদিতি)তারপরও নিহাদকে চুপ করে থাকতে দেখে পাশ থেকে উঠে নিহাদের বাঁ গালে ঠাস করে চড় মারে। আকস্মিক চড় খেয়ে নিহাদ বিস্মিত আর ব্যথিত। চড় খেয়ে নিহাদ ভাবছে, কী মেয়েরে বাবা! সবার সামনে এভাবে চড় মারতে একটুও দ্বিধা বোধ করল না! বন্ধুরা কী যেন একটা বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করছিল, ঠাস শব্দ শুনে সবাই চুপ করে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই অদিতিকে অনেক ভয় পায়।নিহাদ: এ কী, তুমি আমাকে চড় মারলে কেন?অদিতি: এত কবি কবি ভাব নিয়ে ঢং করে কথা বলছ কেন? ঢং আমি একদম সহ্য করতে পারি না।-আমি তো শুধু মজা করছিলাম।-আর কোনো কথা বলবা না।- ঠিক আছে।বলেই নিহাদ সেখান থেকে উঠে পড়ে। চলবে…লেখক: নাহিদ হোসাইন, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

Source: https://nagorik.prothomalo.com/ayojon/qnj8wscnvq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *