বিশ্ব চলচ্চিত্র

তারকা, প্রিমিয়ার আর দর্শকের ভিড়ে জমে উঠেছে টরন্টো

টরন্টো এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলা। প্রেক্ষাগৃহের সামনে দীর্ঘ সারি, রেড কার্পেটে ক্যামেরার ঝলকানি, প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক, চলচ্চিত্রকর্মী ও সিনেমাপ্রেমীরা জড়ো হয়েছেন কানাডার এই শহরে। একদিকে নতুন ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার, অন্যদিকে তারকাদের পদচারণ আর সিনেমা নিয়ে জমজমাট আলোচনা, কয়েক দিনের জন্য টরন্টোর প্রাণকেন্দ্র যেন শুধুই চলচ্চিত্র। এই উৎসবমুখর আবহে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্দা উঠেছে ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ)। অস্কারজয়ী নির্মাতা শান হেডারের ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের আয়োজন। উৎসব চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অফিশিয়াল সিলেকশনে রয়েছে ২৯৩টি চলচ্চিত্র। উদ্বোধনের কেন্দ্রে ‘বিয়িং হিউম্যান’ প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী মার্কিন কর্মী জুডি হিউম্যানের জীবন ও আন্দোলন নিয়ে নির্মিত ‘বিয়িং হিউম্যান’। জুডির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী রুথ মেডলি। ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণমন্ত্রী জোসেফ ক্যালিফানো জুনিয়রের চরিত্রে আছেন মার্ক রাফালো। অস্কারজয়ী ‘কোডা’র পর এটি শান হেডারের নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে শান হেডারের সঙ্গে ছিলেন রুথ মেডলি, ডিলান ও’ব্রায়েন, ড্যানিয়েল ডুরান্ট, রে ফিশার, ম্যাডেলিন ডেলপ, রাসেল হার্ভার্ড, রবের্তা কোলিন্দ্রেজ, জন বিভার্স, উইল ব্রিলসহ ছবির বড় একটি দল।.রেড কার্পেটে রয়টার্সকে শান হেডার বলেন, জুডি হিউম্যানের কাজ ছিল ‘অদৃশ্য মানুষদের দৃশ্যমান করে তোলা’। তাঁর মতে, জুডির কাজ শুধু মানুষের দিকে আলো ফেরানো নয়, অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবর্তন আনারও ছিল।জুডি হিউম্যান ১৯৭৭ সালে সান ফ্রান্সিসকোর একটি ফেডারেল ভবনে শতাধিক প্রতিবন্ধী মানুষকে নিয়ে ২৬ দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো ফেডারেল ভবনে সেটিই ছিল দীর্ঘতম অবস্থান কর্মসূচি। আন্দোলনের চাপে ১৯৭৩ সালের রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাক্টের সেকশন ৫০৪ কার্যকর করার বিধিমালায় স্বাক্ষর করে তৎকালীন প্রশাসন। প্রতিবন্ধী মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঘটনাটি পরে মাইলফলক হয়ে ওঠে।জুডির চরিত্রে অভিনয় করা রুথ মেডলি রয়টার্সকে বলেন, মানুষ সাধারণত জুডিকে দৃঢ়চেতা আন্দোলনকর্মী হিসেবেই চেনে। কিন্তু তাঁর মজার দিক, প্রাণচাঞ্চল্য, হাস্যরস ও আনন্দও পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে বিশেষ অর্থবহ।প্রথম দিনেই একের পর এক প্রিমিয়ারআয়োজকদের তথ্য, উৎসবে উপস্থিত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে টরন্টো উৎসব। একের পর এক প্রিমিয়ার, রেড কার্পেটে তারকাদের উপস্থিতি আর প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড়ে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবমুখর ছিল বিভিন্ন ভেন্যু। কোথাও নতুন ছবি দেখতে দর্শকের অপেক্ষা, কোথাও নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের ঘিরে উৎসাহ।ডিসকভারি বিভাগের উদ্বোধন হয়েছে ব্রিটিশ নির্মাতা থিও রিসের ‘স্টাফড’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার দিয়ে। রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ছিল প্রদর্শনী। এটি থিও রিসের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। নিজের একই নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্যে নিয়ে এসেছেন তিনি। ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোডি কোমার ও হ্যারি মেলিং।.প্রেম, মৃত্যু আর ট্যাক্সিডার্মিকে এক গল্পে মিলিয়েছেন নির্মাতা। কেন্দ্রে আরামিন্টা নামের এক ট্যাক্সিডার্মিস্ট। তাঁর ইচ্ছা, একদিন মানুষের শরীর সংরক্ষণ করবেন। অন্যদিকে বয়স বেড়ে যাওয়ার ভয় তাড়া করা নিঃসঙ্গ বার্নি নিজেই তাঁর ‘নমুনা’ হতে রাজি হন। কিন্তু পরিকল্পনা এগোতে থাকলে দুজনের মধ্যে তৈরি হয় অন্য রকম সম্পর্ক। হরর, ডার্ক কমেডি, প্রেম আর মিউজিক্যাল; বিভিন্ন ঘরানার মিশেলে তৈরি ছবিটি প্রদর্শনীর আগেই দর্শকের কৌতূহল তৈরি করেছিল। প্রিমিয়ার ঘিরে জোডি কোমার ও হ্যারি মেলিংকে নিয়েও ছিল আগ্রহ।একই সন্ধ্যায় টিআইএফএফ লাইটবক্সে ছিল প্রামাণ্যচিত্র ‘রাপিনো’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল তারকা মেগান রাপিনোকে নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন রেবেকা হান্ট। তাঁর আগের ছবি ‘বেবা’ ২০২১ সালে টরন্টো উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এবার প্রচলিত ক্রীড়া-জীবনীর বাইরে গিয়ে রাপিনোর ব্যক্তিজীবন, মূল্যবোধ ও মাঠের বাইরের অবস্থান ধরেছেন নির্মাতা। ‘রাপিনো’ এবারের টিআইএফএফ ডকস বিভাগের উদ্বোধনী ছবি।প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন মেগান রাপিনো। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি নারী বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার মাঠের বাইরেও সমান মজুরি, এলজিবিটিকিউ অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সরব অবস্থানের জন্য পরিচিত।রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়ারের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারে রাত পৌনে নয়টায় ছিল বেন শিরিনিয়ানের ‘দ্য হাউসওয়াইফ’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। নাওমি ওয়াটস, টাই শেরিডান, লুক এভানস ও মাইকেল ইমপেরিওলি অভিনীত ছবিটি ১৯৬৪ সালের নিউইয়র্কের পটভূমিতে নির্মিত।প্রথম দিনের আরেকটি আলোচিত ছবি ক্রিস্তিয়ান মুঞ্জিউর ‘ফিয়র্ড’। এ বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম জিতেছে ছবিটি। টরন্টোয় রাত সাড়ে নয়টায় ছিল এর প্রদর্শনী। সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে অভিনীত ছবির কেন্দ্রে নরওয়েতে বসবাসরত একটি রোমানীয়-নরওয়েজীয় পরিবার। রক্ষণশীল ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে উদার সমাজের মূল্যবোধের সংঘাত, সন্তান লালন–পালন এবং রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের মতো বিষয় সামনে এনেছেন মুঞ্জিউ।এর বাইরে প্রথম দিনের সূচিতে ছিল নাইলা ইনুকসুকের ‘ইন দ্য হার্ট অব দ্য সাউথ’, ‘বিলো’সহ আরও কয়েকটি ছবি।.দিনের একেবারে শেষ আয়োজন ছিল হররপ্রেমীদের জন্য। রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারে জশুয়া জুলিয়ানোর ‘রিভার’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে টিআইএফএফের জনপ্রিয় মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগ। জেন লেভি, জেসিকা রোথ, ম্যাক্স ম্যাটার্ন ও ডেন ডিলিয়েগ্রো অভিনীত ছবিটি স্ল্যাশার ঘরানার।উদ্বোধনী দিনেই তাই টরন্টো দেখিয়েছে উৎসবটির বৈচিত্র্য; একদিকে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের গল্প ‘বিয়িং হিউম্যান’, অন্যদিকে হরর-মিউজিক্যাল ‘স্টাফড’; মেগান রাপিনোর জীবন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র থেকে স্বর্ণপামজয়ী ‘ফিয়র্ড’, আর মধ্যরাতে স্ল্যাশার ‘রিভার’। ভিন্ন ঘরানার সিনেমা, তারকা, নির্মাতা ও দর্শকের মেলবন্ধনেই জমে উঠেছে এবারের উৎসব।স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক ছবিতে জোরএবারের উৎসবের লক্ষ্য শুধু তারকাবহুল সিনেমা নয়। টিআইএফএফের চিফ প্রোগ্রামিং অফিসার অনিতা লি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তরুণ দর্শকদের মধ্যে মূলধারার হলিউডের বাইরের আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র দেখার আগ্রহ বাড়ছে। সেই পরিবর্তন মাথায় রেখেই এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে।আলোচিত ছবির মধ্যে রয়েছে পিটার ফ্যারেলির ‘আই প্লে রকি’। তরুণ সিলভেস্টার স্ট্যালোনের ‘রকি’ তৈরির লড়াইকে কেন্দ্র করে ছবিটির গল্প। আলোচনায় আছে ক্রিস রক পরিচালিত ‘মিস্টি গ্রিন’ও। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ছবিটির অভিনেত্রী রোজালিন্ড এলিয়াজারকে এবারের পুরস্কার মৌসুমে নজর রাখার মতো অভিনয়শিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।আরও রয়েছে সিনথিয়া এরিভো অভিনীত ‘প্রাইমা ফেসি’, হুর জিন-হোর ‘দ্য অ্যাসাসিন(স)’সহ নানা দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র। ফলে তারকাবহুল ছবির পাশাপাশি নতুন নির্মাতা ও ভিন্ন ধরনের গল্পও বড় জায়গা পেয়েছে এবারের আয়োজনে।.নতুন অধ্যায় ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’এবার টরন্টো উৎসবে যোগ হয়েছে নতুন অধ্যায়, ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’। এত দিন উৎসবকে ঘিরে চলচ্চিত্র কেনাবেচা ও নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও এবার প্রথমবারের মতো সেটিকে আলাদা ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মের রূপ দিয়েছে টিআইএফএফ। ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সাত দিনের এই আয়োজন চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মূল কেন্দ্র মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টার।শুধু চলচ্চিত্র নয়, সিরিজ ও নতুন ধরনের পর্দার কনটেন্টও জায়গা পেয়েছে এই বাজারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযোজক, পরিবেশক, বিক্রয় প্রতিনিধি, ক্রেতা, অর্থলগ্নিকারী, নির্মাতা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ছবির স্বত্ব কেনাবেচা, নির্মাণাধীন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন ও সহপ্রযোজক খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশনার সুযোগ তৈরি, এসবই এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রয়েছে মার্কেট স্ক্রিনিং, বৈঠক, নেটওয়ার্কিং এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা।.টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘আলী’.আয়োজনের পরিসরও বড়। মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২০টি প্রদর্শনী স্টলের পাশাপাশি রয়েছে একাধিক আলোচনা মঞ্চ, ব্যবসায়িক বৈঠকের লাউঞ্জ, ইনোভেশন জোন ও মার্কেট স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা। মার্কেটের জন্য রাখা হয়েছে ৬৫০টি স্ক্রিনিং স্লট। জুনের মধ্যেই ৪৯টি দেশের ১৩০টির বেশি ক্রেতা অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সিরিজ ও অন্যান্য কনটেন্টের ক্রেতারাও আছেন।উৎসবের জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ছয় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রশিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। ফলে সিনেমা দেখা আর তারকাদের রেড কার্পেটের পাশাপাশি পর্দার আড়ালে চলছে নতুন ছবির স্বত্ব কেনাবেচা, অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা। নতুন ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’ সেই ব্যবসায়িক দিকটিকেই এবার আরও সংগঠিতভাবে সামনে এনেছে।.অপেক্ষায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’এবারের টরন্টো উৎসবে বাংলাদেশেরও গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। সেন্টারপিস বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। টরন্টোয় হবে ছবিটির নর্থ আমেরিকান প্রিমিয়ার।ফ্রান্স, বাংলাদেশ, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি এর আগে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ওরিজোন্তি বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। ভেনিসের এই বিভাগে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত ছবির কেন্দ্রে জাইনিন নামের এক তরুণী। বিয়ের প্রস্তুতি, সৌন্দর্যচর্চা এবং পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে তাঁর শরীর অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঘরোয়া চিকিৎসা, সামাজিক চাপ ও ভৌতিক অভিজ্ঞতা। নির্মাতা নারীর শরীর, স্বাধীনতা ও সমাজের চাপের দ্বন্দ্বকে শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন।.প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনিন চৌধুরী করিম। আরও আছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল, আজমেরী হক বাঁধন, দামীর খান, সাবেরী আলম, শতাব্দী ওয়াদুদ ও মোহাম্মদ বারী।টরন্টোয় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর তিনটি প্রদর্শনী রয়েছে। প্রথম প্রদর্শনী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটায় টিআইএফএফ লাইটবক্সের সিনেমা ৪-এ। একই প্রেক্ষাগৃহে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় হবে দ্বিতীয় প্রদর্শনী। তৃতীয় প্রদর্শনী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে স্কশিয়াব্যাংক থিয়েটারের সিনেমা ৭-এ।২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক আলোচিত ছবির প্রিমিয়ার হবে, রেড কার্পেটে দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের। শেষ দিকে শুরু হবে পুরস্কারের হিসাব-নিকাশ। তবে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকবে দর্শকের ভোটে দেওয়া পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড নিয়ে। কারণ, অতীতে দেখা গেছে টরন্টোয় এই পুরস্কার জেতা অনেক ছবিই পরে অস্কারের দৌড়ে জায়গা করে নিয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত নজর থাকবে, এবার টরন্টোর দর্শকের মন জেতে কোন ছবি।

Source: https://www.prothomalo.com/entertainment/world-cinema/3vrde4kpg1