জাতীয়জেলা/উপজেলানির্বাচনী হালচালরাজনীতিসারাদেশ

মামুন স্যার নির্বাচিত হলে, আমি তৃতীয় বারের মতো আকাশ থেকে পড়বো-আসিফ ইন্তাজ রবি

বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আসিফ ইন্তাজ রবির ফেসবুক পেইজ থেকে সংগ্রহীত

বিশিষ্ট লিখক কলামিস্ট ও সাংবাদিক আসিফ ইন্তাজ রবির ফেসবুক ওয়াল থেকে হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

২০২৬ এর নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে সুযোগ নিয়ে এসেছে কিছু সৎ মানুষকে নির্বাচিত করার।

রবি ভাইয়ের পোস্ট নিম্নরূপ –

আজকে যে প্রার্থীর কথা লিখবো, সে মোটামুটি হুমায়ূন আহমেদের একটি চরিত্র।

তার নাম মোল্লা মামুন স্যার।

কাহিনীটা খুলে বলি।

আশীফ এন্তাজ রবি মনোনীত হাফ ডজন এমপি প্রার্থী
পর্ব ৩
প্রার্থীর নাম: সিরাজুল মামুন ওরভে মোল্লা মামুন স্যার
নির্বাচনী আসন : নারায়ণগঞ্জ ৫
প্রতীক: দেয়াল ঘড়ি

আশির দশকে জনাব মামুন ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পুরো জেলাতে প্রথম হয়েছিলেন। ফলে সেই আশির দশকে উনি ৭ হাজার টাকা স্কলারশীপ পেয়েছিলেন। তিনি থাকতেন নারায়ণগঞ্জে।

পরীক্ষায় ভালো ফল করার কারণে তিনি চান্স পেলেন ঢাকা কলেজে। একটি ”গোপন কারণে” তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি না হয়ে ভর্তি হলেন লোকাল তোলারাম কলেজে।

সেখানেও ভালো রেজাল্ট করে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সুযোগ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কিন্তু তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হলেন না। পিছনে সেই ”গোপন কারণ”।

গোপন কারণটা কী জানেন?

তিনি বাসে উঠতে পারেন না। তার বাস, সিএনজি, প্রাইভেট কার ভীতি রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা কলেজে ভর্তি হলে তাকে বাসযোগে বাড়ি যেতে হবে। এই প্যারা নিতে তিনি রাজী নন। এজন্য নামকরা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেয়েও তিনি ভর্তি হোন নি।

হুমায়ূন আহমেদের ক্যারেক্টার হলে যা হয়, আর কি।

যথারীতি অনার্সে তিনি ফাটাফাটি রেজাল্ট করলেন। সে সময় তার জন্য চাকরিবাকরি অবারিত। কিন্তু তিনি চাকরি না করে শুরু করলেন মাস্টারি। মাস্টারি মানে পিওর মাস্টারি। কোনো স্কুল কলেজের মাস্টারি না। তিনি এলাকার পোলাপানরে ইংরেজি পড়ানো শুরু করলেন। প্রাইভেট টিউটর হিসেবে। এটাই তার ক্যারিয়ার। পুরো নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাকে এক নামে চেনে।

ফুল পাগল।

প্রাইভেট পড়ানোর ক্ষেত্রে তার নিয়ম খুব সহজ। কোনো ফিক্সড টাকা তিনি নেন না। যে পারে, সে তাই দেবে, এই হচ্ছে তার মাস্টারির নমুনা। এবং তার জেলাকে শিক্ষিত করতে হবে, এই হচ্ছে তার ব্রত।

ফলে এলাকায় তিনি বিপুল জনপ্রিয়। স্যার শব্দটা তার নামের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। মোল্লা মামুন স্যার।

তাহলে মোল্লা শব্দটা কোথা থেকে এলো?

এই মামুন স্যার ভীষণ ধর্মভীরু মানুষ। ইসলামকে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছেন। এ কারণে মোল্রা শব্দটিও তার নামের সাথে যোগ হয়ে গেছে।

এই ভদ্রলোকের গল্প আমি শুনতে বাধ্য হয়েছি বড় অদ্ভুত কারণে।

আমাদের হোয়াট দ্যা স্টোরি টিমে আমরা ছিলাম টোটাল ৫ জন। আমি + আরও ৪ জন।

অর্থের অভাবে যখন বেতন বন্ধ হয়ে গেলো, সবাই চলে গেলো।

একটি ছেলে ঝুলে রইলো।

তার নাম লাবিব। সে বললো, আমার বেতন লাগবে না। আমি কাজ করতে চাই। তবে আমার ১ দিনের ছুটি দরকার।

আমি বললাম, ১ দিনের ছুটি দিয়া কী করবা?

সে জানালো, বিয়ে করবো।

আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বললাম, তোমার মতো চালচুলোহীন, শতভাগ বেকার, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক পাগল যুবকের কাছে কোন বাবা তার মেয়েকে তুলে দেবে।

লাবিব বললো, তার শশুরের নাম মামুন স্যার। তিনি তাঁর একমাত্র মেয়েকে হাসিমুখে লাবিবের জীবনসঙ্গী হিসেবে রীতিমতো অনুষ্ঠান করে তুলে দিচ্ছেন। কোনো প্রকার আক্ষেপ, আশংকা ছাড়া। কেননা তিনি বিশ্বাস করেন, রিজকের মালিক একজনই।

আমি বললাম, তোমার হবু শশুরকে আমার সালাম দিও।

তখনও জানতাম না, কে এই মামুন স্যার। কী তার পরিচয়। কিংবা সে যে ইলেকশন করছেন।

সেইটা আরেকটা গল্প।

লাবিব বেড়াতে গেছে নারায়ণগঞ্জে। তার শশুরবাড়িতে। একটা ঝামেলা তার হয়েছে।

সেই ঝামেলা মেটাতে আমি ফোন দিলাম আফজাল হোসেন পন্টিকে। তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি।

পন্টি আমাকে জানালো, ভাই, লাবিবের শশুরকে আপনি চেনেন? উনি যে এমপি ইলেকশন করছেন, এটা আপনি জানেন?

আমি দ্বিতীয়বার আকাশ থেকে পড়লাম।

মামুন স্যার সম্পর্কে সাংবাদিক আফজাল হোসেন পন্টি অনেক ভালো ভালো কথা বললো।

সব শুনে আমি সাংবাদিক সাহেব পন্টিকে বললাম, এত ভালো একজন মানুষ নির্বাচনে দাঁড়ালো, তুমি তাকে কেন বাঁধা দিলা না। সে তো ইলেকশনে হারবে।

পন্টি আমাকে উত্তর দিলো, ভাই, উনি ইলেকশনে জিতবে। চান্স খুবই হাই।

– এটা কীভাবে সম্ভব?

পন্টি উত্তর দিলো, শামীম ওসমানখ্যাত নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপদ। এখানে মামুন স্যার একজন নিরীহ শান্তিবাদী মানুষ। নারায়ণগঞ্জের খুব কম পরিবারই আছে, যেখানে মামুন স্যারের ছাত্রছাত্রী নাই। মামুন স্যারের দ্বারা উপকৃত হোন নাই, এমন মানুষ এই শহরে নেই বললেই চলে। উনি একজন পাগল মানুষ। এই শান্তির মানুষকে, এই সৎ, নির্লোভ মানুষকে, এই সব লোভকে উপেক্ষা করার মতো সাহসী মানুষকে আমরা ভোট দেবোই।

বাই দ্যা ওয়ে।

আফজাল হোসেন পন্টি একজন বিখ্যাত সাংবাদিক। যার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি আমার হাতে। দেশের অনেক সাংবাদিকের হাতেখড়ি আমার হাতে। ৯৯% স্বীকার করে না। পন্টি খুব গর্ব নিয়ে সেটা প্রচার করে।

আমি চাই, পন্টির পূর্বাভাস সত্য হোক।

মামুন স্যার নির্বাচিত হলে, আমি তৃতীয় বারের মতো আকাশ থেকে পড়বো।

নারায়ণগঞ্জের মানুষ আবেগী। ভালোবাসার জন্য তারা প্রাণ দিতে পারে। তারা মামুন স্যারকে নির্বাচিত করে আমাকে তৃতীয় বারের মতো আকাশ থেকে মাটিতে ফেলে দেবে। আমি সেই পতনের অপেক্ষায় আছি।

আমি গোটা দুনিয়া চষে বেড়ানো এক মানুষ। অন্তর থেকে একটা কথা বলি। বাংলাদেশকে আল্লাহ দুই হাত খুলে ঐশ্বর্য দিয়েছেন। এর আলো হাওয়া, এর আবহাওয়া, এর নদী, এর সমুদ্র, এর মাটি, এর উর্বরা ভূমি, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলনাহীন। শুধু মানুষ হিসেবে আমরা নিন্ম শ্রেণীর। যেজন্য সারা পৃথিবীর তলানিতে আমরা পড়ে আছি। আমাদের রাজনীতি যদি ঠিক হয়, আমাদের নেতৃত্ব যদি সঠিক হয়, তাহলে বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ হবে। এটা কয়েক মাসের ব্যাপার। ট্রাস্ট মি।

সঠিক রাজনীতি এবং সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, এই সুযোগ যেন আমরা কাজে লাগাই। আমি নিজে ভালো মানুষ নাও হতে পারি, আমার নেতা যেন ভালো মানুষ হোন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close