আড়াইহাজারকিশোরগঞ্জগাজীপুরচট্টগ্রামজেলা/উপজেলাঢাকাঢাকা বিভাগনরসিংদীনারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জ সদরফতুল্লাবন্দররুপগঞ্জসিদ্ধিরগঞ্জসোনারগাঁও
ভুল তথ্য দেয়ার কারণে ৫৪ বছর যাবৎ বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারেনি: নঈম জাহাঙ্গীর

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভুল তথ্য দেয়ার কারণে ৫৪ বছর যাবৎ বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারেনি। ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার তরুন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিলো তৎকালীণ সরকার। সেই হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন নিতে চায় নি কিন্তু প্রকৃতি নিয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে ২৯ নভেম্বর বক্তাবলী পরগনার গণহত্যা দিবসে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড এর উদ্যোগে এ স্বরণ সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর এ-সব কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড এর আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী’র সভাপতিত্বে ও-ই স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নঈম জাহাঙ্গীর বলেন- ইতিহাস কোনো দিন ভুল, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের উপর দাঁড়াতে পারেনা। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো জনগণের ভিত্তির ওপর। ত্যাগ, সহযোগিতা, গণহত্যা সকল কিছু মেনে নিয়েছিলো জনগণ। মুক্তিযুদ্ধের কোন অহংকার, গৌরব জনগণ পায় নি। যুদ্ধের পর যে ইতিহাস তৈরী করা হয়েছিলো, সে-টা ব্যক্তির নামে পরিবারের নামে। সে ইতিহাস বাংলাদেশে কোনদিন টিকবেনা। ৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ করেছি, আমরা মরেছি এবং তাদেরকে মেরেছি। পরিশেষে জয় লাভ করেছি তাদেরকে পরাজিত করে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন- এ বক্তাবলীতে আমরা পূর্বেও এসেছি। কিন্তু এ ঘটনা আঞ্চলিক কোন ঘটনা বা জাতীয় পুস্তিকা কোথাও আসেনি। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের বর্তমান প্রজন্ম জানেনা। আমরা কি গুণকীর্তন করবো, নাকি সত্য ঘটনা বলবো। বক্তাবলীর ১৩৯ জন মানুষকে হত্যার কোন স্বীকৃতি নেই। কারণ, সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে চায় নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন জাতি নেই, যারা যুদ্ধ করে নিজেদের গৌরব অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। বক্তাবলীবাসীর ইতিহাস কোনদিন আপনাদের ভুলে যাবেনা। এটাই আমাদের ঠিকানা, এ-ই রক্তমাখা জায়গায় আমরা বার বার ফিরে আসবো।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড এর আহবায়ক মোহাম্মদ আলী তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন- আজকের এ অনুষ্ঠানে আমি বলবো, সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। যদি আপনারা আশ্বাস দেন, সহযোগিতা করেন, দোয়া করেন। তা-হলে আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করবো।
ও-ই স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এর যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল বরণ রায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সরকার হুমায়ুন কবির, মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এড. জাকির হোসেন প্রমূখ।
পরিশেষে সকল শহীদদের জন্য, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মওলানা ফেরদাউসুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে উপস্থিত সকলের মাঝে তোবারক বিতরণ করা হয়।



