কলাম

নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়—গণতন্ত্র হলো প্রতিনিয়ত মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক জীবনের সব ক্ষেত্রে মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চর্চা। সংলাপ, সহযোগিতা এবং ভিন্নমত—এমনকি নাগরিক সমাজের মতামত বোঝার চেষ্টা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এ কথাগুলো জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। তিনি এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের বাণীতে এসব বলেছেন।পৃথিবীর অনেক দেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম চাওয়া নির্বাচনও ঠিকঠাক পাচ্ছে না মানুষ। বাকি চাওয়া তো দূরের কথা। বাংলাদেশে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে, যা মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটা পরিণতি পেয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর শাসনের পর একটি ভালো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে।সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। বাংলাদেশের মানুষের নির্বাচনকেন্দ্রিক চাওয়া কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য বিরোধী দলগুলো মিলে দেশের মানুষের বাকি চাওয়াগুলোর কতটা পূরণ করতে পারে—এটাই এখন দেখার বিষয়। অবশ্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়। এর ফলে সব দল মিলে জুলাই সনদ সই করে। তবে জুলাই সনদ ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে এখন ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতের বিরাট ফারাক রয়েছে।.এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই প্রশ্নটিও অমীমাংসিত। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা পলাতক কিংবা কারাগারে। কিন্তু দেশে দলটির সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের ভুল স্বীকার এবং বিরোধ নিষ্পত্তির (রিকনসিলিয়েশন) আলোচনা আছে। তবে এসবের সমাধান এখনো অজানাই রয়ে গেছে।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র হলো সবচেয়ে খারাপ সরকারব্যবস্থা। তবে অন্য সব ব্যবস্থার চেয়ে ভালো।’ বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র অন্য সব ব্যবস্থার চেয়ে কতটা ভালো—বিশ্বব্যাপী এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিদিনই খারাপ থেকে আরও খারাপে দিকে এগোচ্ছে।প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের চর্চা, মানবাধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির গুরুত্ব সামনে আনার জন্য জাতিসংঘ ২০০৭ সালে দিনটি ঘোষণা করে। কিন্তু গণতন্ত্র দিবসের আলোচনায় এখন শুধু নির্বাচন হচ্ছে কি না—এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিরোধী দলের সুযোগ কতটা, নাগরিক স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত, সরকার কতটা জবাবদিহির মধ্যে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।.বিশ্বের গণতন্ত্রের সূচকগুলো বাংলাদেশের জন্য একটি আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে। কোনো সূচকের র‍্যাঙ্কিং হয়তো আগামী বছর বদলে যাবে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্রের শক্তি নির্ধারিত হয় তার প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন, নাগরিকেরা কতটা নিরাপদে কথা বলতে পারেন এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার সীমা কতটা কার্যকরভাবে নির্ধারিত—তার ওপর।.গণতন্ত্র পরিমাপের ক্ষেত্রে সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যারাইটিস অব ডেমোক্রেসি (ভি-ডেম) ইনস্টিটিউট গত মার্চে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৮৭টি দেশ গণতান্ত্রিক ও ৯২টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের আওতায় ছিল। প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বাস করছে, যেগুলোকে ‘ইলেকটোরাল অটোক্র্যাসি’ বা নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক হলো, ২০২৫ সালে বন্ধ স্বৈরতান্ত্রিক (প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয় না) রাষ্ট্রের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের পর গণতান্ত্রিক সূচকে উন্নতির প্রবণতা দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অবশ্য, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, টানা আট বছর অবনতির পর ২০২৫ সালে বিশ্বে গণতন্ত্রের অবনমন কিছুটা থেমেছে। ১৬৭টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর তৈরি এই সূচকে নির্বাচন ও বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা—এই পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। গত এপ্রিলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশ ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের স্কোর বাড়িয়েছে কিংবা একই অবস্থানে থেকেছে। অর্থাৎ, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অবনতির পর বিশ্ব গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অন্তত একটি সাময়িক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এটিকে গণতন্ত্রের সংকট কেটে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছে না ইআইইউ। বরং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লেও অনেক দেশে সরকারের জবাবদিহি ও নাগরিক স্বাধীনতা দুর্বল হয়েছে। তারা পর্যবেক্ষণে বলেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশেষভাবে উদ্বেগের জায়গা। এ অঞ্চলে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও আন্দোলন বেড়েছে, কিন্তু অনেক দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেই চাপকে কার্যকর সংস্কারে রূপ দিতে পারছে না। ফলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও মানুষের হতাশা কমছে না।.১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই যাত্রা শুরু করে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি করা হয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা দেশকে চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছরের মাথায় সেই সংবিধান বাতিল করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বা বাকশাল কায়েম করে। সেই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবার হত্যার শিকার হন। এরপর সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, সেনাশাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে দেশ।১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ও ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ স্বাধীনতা পায়নি এমন সমালোচনা আছে। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পালাক্রমে সরকার গঠন করে। তবে নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে বিরোধ অব্যাহত ছিল। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে; ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করে।২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে তলানিতে নিয়ে আসে। এই তিনটি নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন আয়োজনে যুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের (সিইসি) পরে কারাগারে যেতে হয়। তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পলাতক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। এখন বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন, সংসদ, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করা।.গণতন্ত্রের সবচেয়ে প্রচলিত চিহ্ন নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের শুরু, শেষ নয়। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের সুযোগ যেমন থাকতে হয়, তেমনি ক্ষমতায় থাকা সরকারের ওপরও নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। সংসদকে কার্যকর হতে হয়, বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দিতে হয়, আদালতকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হয় এবং সংবাদমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা দিতে হয়। নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকারও থাকতে হয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ব্যক্তি বা দলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নির্বাচন থাকলেও গণতন্ত্র দুর্বল হয়।বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু নির্বাচনের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা যায় না। আবার ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দেখিয়েছে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত থাকলে সমাজে অসন্তোষ অন্য পথে বিস্ফোরিত হতে পারে।সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ হলো—বিশ্বের অনেক দেশে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তরুণদের আন্দোলন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু এই অংশগ্রহণ যদি কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিতে রূপ না নেয়, তাহলে নতুন হতাশা তৈরি হতে পারে।বাংলাদেশেও ২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও রাজনীতির পুরোনো কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী গণতান্ত্রিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে তরুণদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অংশ হিসেবেও জায়গা দিতে হবে।.আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু ‘দেশটি গণতান্ত্রিক কি না’—এমন সরল প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী হচ্ছে?২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন সুযোগ পেয়েছে। এখন সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা, বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সহিংসতা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রাখা।বিশ্বের গণতন্ত্রের সূচকগুলো বাংলাদেশের জন্য একটি আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে। কোনো সূচকের র‍্যাঙ্কিং হয়তো আগামী বছর বদলে যাবে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্রের শক্তি নির্ধারিত হয় তার প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন, নাগরিকেরা কতটা নিরাপদে কথা বলতে পারেন এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার সীমা কতটা কার্যকরভাবে নির্ধারিত—তার ওপর।.গণতন্ত্রের পশ্চাদ্‌যাত্রা, লড়াই চলছে দেশে দেশে.আরও নির্দিষ্ট করে বললে, জুলাই সনদের সংস্কার বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এখন সংবিধান সংশোধন। ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে; এই কমিটি সনদের সাংবিধানিক প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশোধনী বিলের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে বিরোধী দল এই কমিটিতে নাম দেয়নি। ফলে বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ এখনো কাটেনি। সরকার সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, আর বিরোধী দলগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্কার কোন পথে যায়, এর ওপর অনেকটাই দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মুখ্য হয়ে উঠতে পারে।আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার*মতামত লেখকের নিজস্ব

Source: https://www.prothomalo.com/opinion/column/5fcmi8x8d7