আইন ও অধিকারজেলা/উপজেলারাজনীতিলেখা-পড়াসারাদেশ
ফতুল্লায় সংঘর্ষে শিশু গুলিবিদ্ধ: অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি—জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের

ফতুল্লা থানার আওতাধীন চাঁদনী হাউজিং এলাকায় জুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিরীহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ইমরানসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর গভীর উদ্বেগ, তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ইমরানের সংকটাপন্ন অবস্থা মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে অপচেষ্টা চলছে, তার পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক মাহফুজ খান বলেন,
“৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন যদি এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে, তাহলে আমরা নারায়ণগঞ্জজুড়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। নিরপরাধ মানুষের রক্তের সাথে কোনো আপস হতে পারে না।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন,
“লাশের দায় দল নেয় না, ব্যক্তির অপরাধের দায়ও নেয় না—শুধু নেয় টাকার ভাগ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের গুলিতে আজ একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন সংকটে। এই বাস্তবতা আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক। অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে—এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিত না হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জুড়ে ধারাবাহিক ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিন, এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
বিবৃতি



