জেলা

গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ‘গালাগালের’ পর এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ ও ফেসবুক পোস্ট: এনসিপি নেতা সজল এখন পুলিশের হাতে

গাজীপুরের শ্রীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা আর ফেসবুকের ক্ষোভ—এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে শেষমেশ শ্রীঘরের বাসিন্দা হতে হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে। ২৬ বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম ওরফে সজল নামের এই যুবককে গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বরামা গ্রামের ইমতিয়াজ উদ্দীনের ছেলে সজল শ্রীপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন।

ঘটনার নেপথ্যে সজলের করা একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সজলের পরিবারের দাবি, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি মন্তব্যই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মা আসমা আক্তার জানান, ছেলে সহজ-সরল মনে কয়েক দিন আগে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। পরে পরিচিতদের পরামর্শে সেটি সরিয়ে ফেললেও পুলিশের হাত থেকে রেহাই মেলেনি। তাঁর ভাষ্যমতে, পুলিশ সজলের ফেসবুকের সেই আপত্তিকর মন্তব্যের জেরেই তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহ একে প্রশাসনের ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাব রয়ে গেছে এবং তাঁরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ সজলকে আটক করেছে। সোমবার রাতে বরমী বাজারে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে দলটি, যেখানে সজলের দ্রুত মুক্তি দাবি করা হয়।

তবে শ্রীপুর থানা পুলিশ পুরো বিষয়টিকে দেখছে ভিন্ন চোখে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের দাবি, সজলের গ্রেপ্তারের সাথে ফেসবুক পোস্টের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। বরং গত ২১ সেপ্টেম্বর জৈনাবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের করা নিষিদ্ধ মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি আরও যোগ করেন, ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি তিনি গ্রেপ্তারের অনেক পরে জানতে পেরেছেন। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সজলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/3cmm5c7wid

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *