জেলা

খাটের ওপর পড়ে ছিল স্ত্রী-সন্তানের নিথর দেহ, ফ্যানে ঝুলছিল স্বামীর লাশ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় একই ঘর থেকে এক প্রবাসী, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাকান্দি গ্রাম থেকে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত তিনজন হলেন বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামের আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও তাঁদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার।.পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আগাত করে এবং শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মো. মনির হোসেন, ওসি, মানিকগঞ্জ সদর থানা.মানিকগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামের আকরাম হোসেন সৌদিপ্রবাসী। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। ওই সংসারে কোনো সন্তান নেই। এরপর প্রায় তিন বছর আগে সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ গ্রামের মহসিন খানের মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন আকরাম। এরপর তিনি সৌদি আরবে চলে যান। প্রায় দুই মাস আগে আকরাম দেশে ফেরেন। পারিবারিক কলহে মাঝেমধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে আকরামের ঝড়া হতো।নিহত তিনজনের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, বাড়িতে টিনের চৌচালা একটি ঘরে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে থাকতেন আকরাম। গতকাল শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে তাঁরা ঘুমাতে যান। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকেও ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছিলেন না। দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে বাড়ির লোকজন তাঁদের ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের বেড়া কেটে প্রিয়াঙ্কা ও মেয়ের লাশ খাটে এবং ফ্যানের সঙ্গে আকরামের লাশ ঝুলতে দেখেন বাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে আজ বেলা দুইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।.বেলা তিনটার দিকে ওই বাড়িতে গিয়ে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আকরামের মা তাহমিনা বেগম আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘আমার কী হইয়্যা গেল রে…। বাবা (আকরাম), ক্যানো তোরা এমন করলি।’নিহত প্রিয়াঙ্কার স্বজনেরাও ওই বাড়ি এসেছেন। তাঁর বড় বোন মিশু আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দাম্পত্য ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে মারধর করা হতো। দু-তিন দিন আগেও তাঁকে মারধর করেন স্বামী। সন্তান কান্না করলেও প্রিয়াঙ্কাকে মারধর করা হয়। মারধরের কারণে প্রিয়াঙ্কা মুখে আঘাত পান। সেই ছবি তুলে প্রিয়াঙ্কা মুঠোফোনে পাঠিয়েছে।.এসব বিষয়ে কথা হলে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আগাত করে এবং শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/5edex06py3

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *