রস+আলো

আমার চিন্তা— রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো! মিশা সওদাগর

সওদাগরনামা: আমার চিন্তা ও রস+আলোর বাউন্সার

তিন যুগ ধরে বড় পর্দার ত্রাস তিনি। রুপালি জগতের জনপ্রিয় সেই ‘খলনায়ক’ মিশা সওদাগর এখন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সময় মাঝরাতে সেখান থেকেই তিনি মুখোমুখি হলেন ‘রস+আলো’র। আলাপচারিতায় ছিলেন মনজুর কাদের।

রস+আলো: সিনেমার পর্দায় তো অসংখ্য নায়কের মুখোমুখি হয়েছেন। এবার রস+আলোর সামনে দাঁড়িয়ে কেমন বোধ করছেন?

মিশা সওদাগর: দেশের সব তারকা নায়ক-নায়িকার সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েও এখনো নিজের সম্মানটা ধরে রাখতে পেরেছি। তাই রস+আলোর মুখোমুখি হয়েও আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী। তবে মনের কোণে কিছুটা সন্দেহও জাগছে (হাসি)!

রস+আলো: আজকের প্রশ্নগুলো কিন্তু আপনার সিনেমার সংলাপের মতোই বেশ কড়া। সামলাতে পারবেন তো?

মিশা: গত তিন দশকে এর চেয়েও অনেক কঠিন সময় পার করেছি। তাই এগুলো সামলানো আমার জন্য ডালভাত। আমার বরং উল্টো চিন্তা হচ্ছে—রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো!

রস+আলো: তাহলে শুরু করা যাক। আপনার মগজ কি কেবল সিনেমার পর্দাতেই ক্ষুরধার, নাকি ব্যক্তিজীবনেও বেশ চালু?

মিশা: আসলে অনেক সংলাপই জীবনের দর্শনে রূপ নেয়। মূল বিষয় হলো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। তাই ডায়ালগটা হওয়া উচিত—‘নাম আমার লালু, ব্রেনটা বড়ই চালু, প্রয়োজনে নিজের ব্রেনকে করব মসৃণ আর ঢালু…’

রস+আলো: শোনা যায় আপনার চৌদ্দগোষ্ঠী নাকি জমিদার ছিল? খবর কি সত্য?

মিশা: চৌদ্দপুরুষের খবর জানি না, তবে তিন প্রজন্মের ইতিহাস একদম পরিষ্কার। আমার দাদা ছিলেন জুম্মন সওদাগর, বাবা উসমান সওদাগর আর আমি মিশা সওদাগর। গত তিন যুগ ধরে নিজের ‘সওদাগরি’ দাপট অক্ষুণ্ণ রেখেছি।

রস+আলো: আপনার প্রিয় রং কোনটি?

মিশা: প্রকৃতির মতোই আমার রঙের পছন্দও ঋতুভেদে বদলায়। কখনো শুভ্র সাদা, কখনো গম্ভীর কালো, আবার কখনো উজ্জ্বল সোনালি।

রস+আলো: মানুষের ‘চাট্টিবাট্টি গোল’ করে দেওয়ার নেশাটা আপনার কেন?

মিশা: পুরো পৃথিবীটাই একটা বিশাল স্টেডিয়াম। এখানে সবাই নিজের সেরাটা দিয়ে শীর্ষে পৌঁছাতে চায়। যে সামনে থাকে, সে-ই সেরা। তাই নিজের যোগ্যতায় সবার চাট্টিবাট্টি গোল করে জয়ী হওয়াটাই আমার নেশা।

রস+আলো: আপনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তো ট্রল আর মিমের বন্যা বয়ে যায়। এগুলো কি চোখে পড়ে?

মিশা: মানুষ দিনশেষে একটু বিনোদনের খোঁজ করে, আর আমাদের কাজই হলো মানুষকে আনন্দ দেওয়া। তাই মিমগুলো দেখে আমি মোটেও বিরক্ত হই না, বরং নিজেও বেশ মজা পাই।

রস+আলো: পছন্দের কোনো বিশেষ মিম আছে?

মিশা: ‘বলো না কবুল’ সিনেমার সেই দৃশ্যটা। যেখানে কাজি সাহেব কবুল বলতে বললে নায়িকা দেরি করে। তখন আমি এক ধমক দিয়ে বলি, ‘বল কবুল!’ এরপর কবুল বলা মাত্রই কাজি সাহেবকে একটা লাথি মারি। এটাই সবচেয়ে মজার আর ভাইরাল মিম!


নেত্রী হওয়ার সাহসই নেই!
– সাবিলা নূর


রস+আলো: সিনেমার সেই কুখ্যাত ‘DMC’ (ধরো, মারো, ছাড়ো) তত্ত্বে মিশা সওদাগর কি বাস্তবেও বিশ্বাসী?

মিশা: সময় মানুষকে বদলে দেয়, বদলে যায় বিচারবুদ্ধিও। সেই সময় ডিএমসি মানে ছিল—ধরো, মারো, ছাড়ো। কিন্তু এখন আমার কাছে ডিএমসির সংজ্ঞা হলো—ডেডিকেশন (উৎসর্গ), মেডিটেশন (ধ্যান) আর কনসেনট্রেশন (একাগ্রতা)।

রস+আলো: নিজের কোন সংলাপটি আপনার সবচেয়ে প্রিয়?

মিশা: জনপ্রিয় সংলাপ তো অনেক আছে। তবে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে—‘জয়কালে ক্ষয় নাই, মরণকালে ওষুধ নাই!’

রস+আলো: যদি রস+আলোর জন্য একটি সংলাপ উৎসর্গ করতে বলা হয়, তবে কোনটি বেছে নেবেন?

মিশা: ‘আরিয়ান মির্জা আমার ছেলে, আমার পৃথিবী। পৃথিবীর সবখানে হাত দিলেও এই একটি জায়গায় হাত দেওয়া যাবে না। যদি হাত দেন, তাহলে আপনার এমন জায়গায় হাত দেব, আপনার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে!’

Source: https://www.prothomalo.com/fun/w7jkcfd4dv

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *