জেলা

জানালার গ্রিল কেটে ঢুকল চোর, শিশুদের ‘সততা স্টোরে’ চুরি

শিশুদের সততার পাঠশালায় সিঁধ কাটল চোর: লুটে নিল জমানো টাকা ও ফ্যান

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শিশুদের মনে সততার বীজ বপন করার একটি অনন্য উদ্যোগের ওপর আঘাত হেনেছে চোরচক্র। কোনো বিক্রেতা ছাড়াই পরিচালিত ‘সততা স্টোর’-এর টিনের বাক্স ভেঙে টাকা লুটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মালামালও চুরি হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে জানালার গ্রিল কেটে একদল চোর শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে শিশুদের জন্য চালু করা সততা স্টোরের টাকা রাখার বাক্সটি ভেঙে নগদ ১ হাজার ২৫০ টাকা নিয়ে যায় তারা। শুধু টাকাই নয়, শ্রেণিকক্ষের দুটি বৈদ্যুতিক পাখাও খুলে নিয়ে চম্পট দেয় চোরেরা। এছাড়া একটি আলমারির তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পূর্ণেন্দু চন্দ্র রায় জানান, বর্তমানে স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় সাত বছর আগে কোমলমতি শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দিতে এই ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়। এখানে মুড়ি, বিস্কুট ও চানাচুরের মতো শুকনা খাবার সাজানো থাকে এবং প্রতিটির গায়ে দাম লেখা থাকে। টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো খাবার নিয়ে নির্ধারিত দাম একটি টিনের বাক্সে রেখে দিত। ১০-১৫ দিন পর পর সেই জমানো টাকা দিয়ে আবার নতুন খাবার কেনা হতো। সেই ছোট্ট সঞ্চয়েই ভাগ বসাল দুর্বৃত্তরা।

এই চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের মালপত্র এবং জরুরি নথিপত্র নিয়ে আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানে কোনো নৈশপ্রহরী নেই, ফলে রাতের বেলা এটি পুরোপুরি অরক্ষিত থাকে।

একই রাতে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খাগা আশ্রমেও চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানেও একটি ঘরের তালা ভেঙে পূজার কাজে ব্যবহৃত কাঁসার থালাবাসনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মুন্নাফ হোসেন মনে করেন, এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই হয়তো কেউ স্কুল ও আশ্রমে হানা দিয়েছে। তিনি এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/w7xw4tuww4

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *