আড়াইহাজারকিশোরগঞ্জগাজীপুরজেলা/উপজেলাঢাকানরসিংদীনারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জ সদরফতুল্লাবন্দররুপগঞ্জসিদ্ধিরগঞ্জসোনারগাঁও
পাপুয়া নিউগিনিতে প্রবাসীর ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ , নারায়ণগঞ্জে মামলা


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে জীবিকার সন্ধানে পাপুয়া নিউগিনিতে গিয়ে সাইফুল মণ্ডল নামে এক প্রবাসীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯০ লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রায়হান শরীফ ও রবিউল ইসলাম নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।
চুরির এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত রায়হান শরীফের বড় ভাই সায়হান শরীফ উল্টো ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
যা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। অভিযুক্ত রায়হান সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলা বাড়ি এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাইফুল মণ্ডলের বোন বীথি আক্তার জানান, গত ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রায়হান শরীফ আল-রাফি ট্রেডিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে পাপুয়া নিউগিনিতে পাড়ি জমান। বিদেশ যাওয়ার আগে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল মণ্ডলের সাথে রায়হান ও তার বড় ভাই মো. সায়হান শরীফের একটি চুক্তি হয়।
চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, রায়হানকে সেখানে তিন বছর কাজ করতে হবে এবং মালিক ছাড়পত্র দিলেই কেবল সে অন্য কোনো স্থানে ব্যবসা বা চাকরি করতে পারবে। এই শর্ত মেনে ৮ লাখ টাকা প্রদান করে পাপুয়া নিউগিনিতে যান তিনি।
সেখানে দীর্ঘ ১৫ মাস সাইফুল মণ্ডলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার পর সুযোগ বুঝে প্রতিষ্ঠানটি থেকে রায়হান ও রবিউল ইসলাম দুই জনে মিলে ৯০ লাখ ১২ হাজার ৮৫০ টাকা চুরি করে পালিয়ে যান তার।
এই চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী সাইফুল মণ্ডল পাপুয়া নিউগিনির আদালতে দুই জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বীথি আক্তার অভিযোগ করেন, পাপুয়া নিউগিনিতে চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে রায়হান শরীফ বাদী হয়ে দেশে আমার ভাই সাইফুল মণ্ডল ও আমার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানবপাচার আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
আদালত রায়হানের দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত করেন। পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব রহমান দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা ও দায়রা জজ এবং মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস. এম. জাকির হাসান মামলাটি খারিজ করে দেন।
তদন্তের বিষয়ে পিবিআই কর্মকর্তা মাহবুব রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পেয়ে আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এর সত্যতা যাচাই করি। পাপুয়া নিউগিনিতে রায়হান শরীফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে আমরা ওই দেশে ইমেইল করি।
পাপুয়া নিউগিনির সিআইডি আমাদের নিশ্চিত করে যে, রায়হান শরীফের বিরুদ্ধে সেখানে মামলা হয়েছে এবং তারা এর তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি বিবেচনা করে আমি আদালতে প্রতিবেদন জমা দিই।
বীথি আক্তার আরও অভিযোগ করেন যে, ট্রাইব্যুনালে মামলা খারিজ হওয়ার পর রায়হানের বড় ভাই সায়হান শরীফ তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা এখন অযৌক্তিকভাবে ৩৪ লাখ টাকা দাবি করছেন এবং সন্ত্রাসী নিয়ে এসে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। নিম্ন আদালতে হয়রানির উদ্দেশ্যে তারা নতুন করে আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মো. সায়হান শরীফ স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের অনুসারী হিসেবে প্রভাব খাটাতেন। ৫ আগষ্টের পর দলবদল করে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এবার বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেই সেই অপরাধ কর্মকান্ডের পূনরাবৃত্তিতে মেতে উঠেছেন। তিনি এখন ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অযৌক্তিকভাবে টাকা দাবি করছেন এবং সন্ত্রাসী নিয়ে এসে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন।
এদিকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা জানিয়ে বীথি আক্তার ও তার পরিবার এই হয়রানি ও হুমকি ধামকি ও আতংক থেকে রেহাই পেতে এবং চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে আইনশৃংখলাবাহিনী ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকার্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেন ।


