আড়াইহাজারকক্সবাজারকমলগঞ্জ উপজেলাকিশোরগঞ্জকুমিল্লাখুলনা বিভাগগাজীপুরচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বিভাগজামালপুরজেলা/উপজেলাঢাকাঢাকা বিভাগনরসিংদীনারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জ সদরফতুল্লাবন্দরময়মনসিংহ বিভাগমৌলভীবাজাররংপুর বিভাগরাজশাহী বিভাগরুপগঞ্জশ্রীমঙ্গল উপজেলাসিদ্ধিরগঞ্জসিলেট বিভাগসোনারগাঁও
তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাংবাদিক এমদাদুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন তাড়াইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, কিশোরগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক ও সংগঠক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এমদাদুল্লাহকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের মাঝে তাঁর পক্ষে ইতোমধ্যে অনলাইনভিত্তিক প্রচারণা, মতবিনিময় ও গণসংযোগ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কওমি অঙ্গন, আলেম সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো।
তাড়াইল উপজেলা সদরের পশ্চিম সাচাইল (শান্তিনগর) গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এমদাদুল্লাহর জন্ম উপজেলার বোরগাঁও গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা আবু জাহীদ কাদরী ছিলেন করাচি থেকে ফারেগ একজন প্রখ্যাত আলেম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। পারিবারিকভাবেই দ্বীনি শিক্ষা, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক আদর্শের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি।
শিক্ষাজীবনে হাফেজে কুরআন হওয়ার পাশাপাশি ক্বারিয়ানা ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এমদাদুল্লাহ। একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষাতেও তিনি কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ও ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে অধ্যয়ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও লেখালেখির মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন।
২০০০ সালের ১২ জুন দৈনিক জাহান পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতায় যাত্রা শুরু হয় তাঁর। পরবর্তীতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করে তিনি একজন পরিচিত সাংবাদিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং অনলাইন দৈনিক বজ্রধ্বনি-তে সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৫ সাল থেকে সম্পৃক্ত আছেন তাড়াইল প্রেস ক্লাবে। বর্তমানে তিনি তাড়াইল প্রেস ক্লাবের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন দীর্ঘ দিন।
তবে সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেই তাঁর সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের মাধ্যমে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এমদাদুল্লাহ। ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে তিনি উপজেলা সেক্রেটারি, উপজেলা সভাপতি এবং পরে কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে জেলা নির্বাহী সদস্য, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যের দায়িত্বও রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এমদাদুল্লাহ অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। একসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জেলার অন্যতম নেতা হিসেবে জোটের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠপর্যায়ে তাঁর সরব উপস্থিতিও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এছাড়াও কওমি মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতি আন্দোলন, ফতোয়া আন্দোলন, শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক বিভিন্ন দাবিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় আলেম-উলামাদের অনেকেই তাঁকে ইসলামী রাজনীতির “বিশ্বস্ত মুখ” হিসেবে অভিহিত করছেন।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। এতিম, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহযোগিতা, বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা প্রদান, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তাড়াইলে দারুল কুরআন মাদরাসা ও দারুল কুরআন মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারেও অবদান রেখেছেন তিনি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তাড়াইলের রাজনৈতিক সমীকরণে এবার ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য ঐক্য ও সমঝোতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সে ক্ষেত্রে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য সমমনা দলের মধ্যে সমঝোতার আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে উঠে আসছে এমদাদুল্লাহর নাম।
এদিকে ১১ দলীয় রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেও সম্ভাব্য একক প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাংবাদিক ও রাজনীতিক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ এমন আলোচনা এখন তাড়াইলজুড়ে।
এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে তাড়াইল উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসানুল ইসলাম ইয়াসীন বলেন, আমরা তৃণমূলের মতামত নিয়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সকল ইউপি চেয়ারম্যান এবং কিছু ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছি। তবে আমরা চাই চূড়ান্ত পর্যায়ে সকল ইসলামী দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী মাঠে থাকবেন। এক্ষেত্রে খেলাফত মজলিস সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাড়াইল ইমাম উলামা পরিষদের এক দায়িত্বশীল জানান, কওমি ভিত্তিক ইসলামী দলসমূহ এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল দুই দিক থেকেই যোগ্য প্রার্থী এমদাদুল্লাহ। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি রাজনৈতিক ময়দানে আছেন। সাংবাদিক, দক্ষ সংগঠক, আধুনিক ও সচেতন আলেম হিসেবে উপজেলার সর্বত্র রয়েছে তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা। অতীত নেতৃত্ব, সমাজ সেবা ও দানশীলতায় সাধারণ মানুষের মাঝে যে আস্থা তৈরি করেছেন তিনি তা কাজে লাগিয়ে তাঁকে নিয়ে যেভাবে


