
কল্পবিজ্ঞানের রূপালি পর্দা হোক কিংবা বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক জটিলতা—সময়ের কাঁটা উল্টে অতীতে ফেরা বা ভবিষ্যতে পাড়ি জমানোর এক অদ্ভুত নেশা চিরকালই মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এই রোমাঞ্চকর বিষয় নিয়েই সম্প্রতি এক প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার বন্ধুরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘টাইম ট্রাভেল ও টাইম লুপ’।
পাঠচক্রে আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সহকারী শিক্ষক ও বন্ধুসভার সদস্য নয়ন আহমেদ। তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, টাইম ট্রাভেল যেখানে সময়ের সরলরেখা ধরে আগে বা পেছনে যাত্রা করাকে বোঝায়, সেখানে টাইম লুপ হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের ঘেরাটোপে বারবার বন্দি থাকা। এইচ জি ওয়েলসের কালজয়ী উপন্যাস থেকে শুরু করে আধুনিক ‘ডার্ক’ বা ‘গ্রাউন্ডহগ ডে’-এর মতো চলচ্চিত্রে এই রহস্যময় ধারণাগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আলোচনায় উঠে আসে বিজ্ঞানের জটিল সব সমীকরণও। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ও ‘টাইম ডাইলেশন’-এর পথ ধরে ভবিষ্যতে যাত্রা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব মনে হলেও, অতীতে ফেরার পথটা বড়ই কণ্টকাকীর্ণ। স্টিফেন হকিংয়ের মতে, মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রকৃতি নিজেই হয়তো অতীতের দুয়ার রুদ্ধ করে রেখেছে। এছাড়া গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স ও বুটস্ট্র্যাপ প্যারাডক্সের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক গোলকধাঁধাগুলো অতীতে ভ্রমণের তাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তোলে। নয়ন আহমেদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অতীতে ফিরে ভুল শুধরে নেওয়ার আদিম মানবিক আকাঙ্ক্ষা হয়তো অধরাই থেকে যাবে, কিন্তু বিজ্ঞান ও কল্পনার এই অপূর্ব মেলবন্ধন মানুষের মস্তিষ্ককে চিরকালই রোমাঞ্চিত করে রাখবে।
ভার্চ্যুয়াল এই পাঠচক্রে উপস্থিত হয়ে নিজেদের মতামত ভাগ করে নেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, সভাপতি মাসরুফা খাতুন, সহসভাপতি ফারাহ্ উলফাৎ রহমান ও মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক রামিজ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাফিউল হাসান ও সাবরিন আখতার। আরও যুক্ত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, অর্থ সম্পাদক আলীউজ্জামান নূর, দপ্তর সম্পাদক ফাহিম আসেফ, প্রচার সম্পাদক মানসুরা খাতুন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আরাফাত মিলেনিয়াম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সোনিয়া খাতুন এবং বন্ধু আলী আসগারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।