
সেঞ্চুরি যেন টেরই পাননি! মাইলফলকে পৌঁছানোর পর একটু অপেক্ষা করলেন। এরপর দুই হাত প্রসারিত করে তুললেন ব্যাট। অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসনও তখন জড়িয়ে ধরে অভিবাদন জানানোর অপেক্ষায়। সেটা আরও বাড়ল। কারণ, অভিষেক যে বসে পড়লেন মেডিটেশনে!কিন্তু মাঠে তো আর মেডিটেশন (ধ্যান বা মনের বিশেষ ব্যায়াম) করার সুযোগ নেই। তাই শুধু মেডিটেশনের ভঙ্গিতে উদ্যাপনটাই করলেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু অভিষেকের এমন উদ্যাপনের কী কারণ?.মনে হতে পারে, অভিষেক ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হলান্ডের উদ্যাপন নকল করলেন নাকি! অভিষেক সম্পর্কে আরেকটু জানাশোনা থাকলে বুঝতে পারার কথা, হলান্ড নয়, এই উদ্যাপন তো ভারতীয় কিংবদন্তি যুবরাজ সিংয়ের জন্য।যুবরাজ অভিষেকের মেন্টর। ব্যাটিংয়ের গুরু। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবরাজের সঙ্গে অভিষেকের মেডিটেশনে বসার ছবিও দেখা গেছে। তা, অভিষেক নিজে কী বলছেন এ নিয়ে?.দিল্লিতে গতকাল রাতে টি–টুয়েন্টি সিরিজে তৃতীয় ম্যাচও ১২৭ রানে জিতে আফগানিস্তানকে ধবলধোলাই করে ভারত। জয়ের পর অভিষেক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মেডিটেশন ও ম্যানিফেস্টেশন (ইতিবাচক চিন্তা) তাঁর জীবনের অংশ। গত ছয় মাস থেকে এক বছর ধরে তিনি এ বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছেন। শুনুন অভিষেকের মুখেই, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরেই এটা করছি। ছয় মাস থেকে এক বছর হবে। আমি মেডিটেশন ও নিজের লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়ায় অনেক গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ, সারা বছর ক্রিকেট খেললে একজন ক্রিকেটারকে ভালো-মন্দ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তখন নিজের মনকে কীভাবে স্থির রাখবেন?’.টি-টুয়েন্টিতে ১৫ হাজারি ক্লাবে প্রথম বাটলার.অভিষেক যোগ করেন, ‘মেডিটেশন আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। কেউ যদি আমার এই উদ্যাপন দেখেন এবং কোনো ক্রিকেটার যদি মনে করেন, গত ছয় থেকে আট মাসে এটা আমাকে যেভাবে সাহায্য করেছে, তাঁকেও এটা সাহায্য করতে পারে। তাই এই উদ্যাপনটা বিশেষভাবে মেডিটেশনের জন্যই করেছি। কারণ, এটা আমাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করছে।’.আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৪ বলে ১০৮ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংস খেলার আগেও যুবরাজের সঙ্গে কথা হয়েছে অভিষেকের। বাঁহাতি এই ওপেনার বলেন, ‘তাঁর (যুবরাজ) কাছ থেকে একটা বার্তা পেয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, প্রতি বলে জোর করে বড় শট খেলতে হবে না। বিশেষ করে এই কন্ডিশনে মাঝে ১-২ রান করে নেওয়া দরকার। বল আমার পছন্দের জায়গায় না থাকলে আমি সিঙ্গেলও নিতে পারি। স্যার সব সময়ই চান, আমি যেন লম্বা সময় ব্যাট করি। আমার মনেও সব সময় থাকে, আমি যদি দলকে এমন একটা শুরু এনে দিতে পারি, তাহলে দল জয়ের পথে থাকবে। বিষয়টি সব সময়ই আমার মাথায় থাকে।’.৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস
Source: https://www.prothomalo.com/sports/cricket/dht9l3270v