কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা:
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বই প্রকাশ, মণিপুরী ভাষা নিয়ে আলোচনা, মণিপুরি লিপি প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI)-এর সহযোগিতায় ও মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামস্থ মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মণিপুরি ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কবি এ, কে, শেরামের সভাপতিত্বে ও মণিপুরী লাইব্রেরি এন্ড রিসার্চ সেন্টার এর পরিচালক আয়েকপম অঞ্জুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI) এর পরিচালক অধ্যাপক ড: মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI) এর অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম, মণিপুর পেট্রিয়টিক রাইটার্স ফোরাম এর সম্পাদক রাকেশ নওরেম প্রমূখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মণিপুরি ভাষার মতো সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের একটি উন্নত ভাষাকে দ্রুত সাংবিধানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজস্ব লিপিতে লেখা মণিপুরি ভাষায় প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শিক্ষাদানের কার্যক্রম শুরু করার আহবান জানানো হয়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে মণিপুরি ভাষা ভিন্ন নাম-পরিচয়ে উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়েই মণিপুরি ভাষাকে তার প্রকৃত পরিচয়ে উপস্থাপনের আহবান জানান।
উল্লেখ্য, মণিপুরি জাতির মাতৃভাষার নাম ‘মণিপুরি ভাষা’। এই ভাষা সেই প্রাচীনকাল থেকেই মণিপুরি জাতির মূলভূমি ভারতের অন্যতম রাজ্য মণিপুরের সরকারি ভাষা এবং এই ভাষায় সেখানে শিক্ষামাধ্যমের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। মণিপুরি ভাষা ও সাহিত্যের রয়েছে কয়েক হাজার বছরের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ভারতে মণিপুরি ভাষাভাষীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মণিপুরি ভাষাকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।