সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার ইসলাম ও নাসিক ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস ইসলাম লিয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাসুদ রানা ওরফে ‘পাড়া মাসুদ’কে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একাধিক মামলা রয়েছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম, তার ছেলে ইলিয়াস ইসলাম লিয়ন এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাসুদ রানা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তবে গত কয়েকদিন ধরে মাসুদ রানাকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম ও তার ছেলে ইলিয়াস ইসলাম লিয়নের প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে মাসুদ রানা ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে সখ্যের সুযোগ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দেওয়া এবং নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে মো. জাকির হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাসুদ রানার প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি মাসুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক পোস্টে জাকির হোসেন দাবি করেন, ৫ আগস্টের আগে মাসুদ আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে মিলে চলাফেরা করছেন বলেও পোস্টে অভিযোগ করা হয়।
জাকির হোসেন তার পোস্টে আরও লেখেন, “আপনারা একটু যাচাই-বাছাই করে দেখেন, আমি মিথ্যা কথা বললাম কিনা।” একই সঙ্গে মাসুদের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করার অভিযোগও করেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন মামলার আসামিরা কীভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে কথা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।