
জীবনের ব্যস্ততা, অবহেলা কিংবা অনিচ্ছাকৃত কোনো ত্রুটির কারণে অনেক সময় আমাদের জীবনের মূল্যবান নামাজগুলো সময়মতো পড়া হয়ে ওঠে না। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের ওপর ফরজ। তবে সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেই নামাজ আদায়ের সুযোগ আছে কি না, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছাড়লে তার প্রতিকার কী—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায়ই নানা বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
ইসলামি আইনশাস্ত্রে (ফিকহ) ফরজ ইবাদত আদায়ের দুটি দিক রয়েছে: আদা (নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা) এবং কাজা (সময় পার হওয়ার পর তা আদায় করে দায়িত্বমুক্ত হওয়া)। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)। তবে মানুষের সীমাবদ্ধতার কারণে ওয়াক্ত পার হয়ে গেলে সেই নামাজ বান্দার ওপর আল্লাহর ‘ঋণ’ হিসেবে থেকে যায় কি না, সেটিই কাজা নামাজের মূল আলোচ্য বিষয়।
খন্দকের যুদ্ধের সময় কাফেরদের তীব্র আক্রমণের মুখে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা আসরের নামাজ সময়মতো পড়তে পারেননি। সেদিন সূর্যাস্তের পর তিনি প্রথমে আসরের কাজা এবং পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছিলেন। হাদিসের স্পষ্ট বর্ণনা ও মুসলিম মনীষীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) দ্বারা কাজা নামাজের বিধান প্রমাণিত।
ঘুমের কারণে বা ভুলে যাওয়ার ফলে নামাজ কাজা হলে, মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা আদায় করা ফরজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নামাজের কথা ভুলে যায় বা ঘুমের কারণে তা ছুটে যায়, তার কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত হলো—যখনই মনে পড়বে, তখনই তা আদায় করে নেওয়া।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭)। এই বিষয়ে সকল যুগের আলেমগণ একমত পোষণ করেছেন।
কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই ইচ্ছা করে নামাজ ত্যাগ করা অত্যন্ত বড় গুনাহ। চার মাজহাবের ইমামদের মতে, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও খাঁটি তওবার পাশাপাশি পেছনের সব ছুটে যাওয়া নামাজ কাজা করা আবশ্যক:
ইমাম ইবনে হাজম, ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিম প্রমুখ আলেমদের মতে, ইচ্ছাকৃত নামাজ ছাড়লে পরবর্তীতে আর কাজা হয় না। তাঁদের যুক্তি হলো—সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় সময় পার হলে তা আর আদায়ের সুযোগ নেই। তবে জমহুর ওলামা বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহগণ এই মতের শক্তিশালী জবাব দিয়েছেন:
সংশয়ে পড়ে নামাজ কাজা না করে বসে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ পথ হলো অতীত জীবনের ছুটে যাওয়া নামাজগুলো আদায় করে নেওয়া। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
সচেতন মুমিন হিসেবে পেছনের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিয়মিত কাজা নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর দরবারে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এতেই রয়েছে আখেরাতে জবাবদিহিতা থেকে নিষ্কৃতির প্রকৃত পথ।
Source: https://www.prothomalo.com/religion/islam/81fppubjhd