[instanow name= imo3aser info_pos= top info_layout= 1 shape= square size= 70 style= default media= 20 link= file layout= grid columns= 1 lm_num= 6 ]
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্য রাস্তায় রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দুই যুবককে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। জোরপূর্বক একজনকে তুলে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী দুই যুবক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া এলাকায় এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাদিমের বোন মোসা. মিতু আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন, সুমিলপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে নাদিম হোসেন (৩১) এবং তার প্রতিবেশী মো. ইমন (৩৫)। অন্যদিকে, মামলার এজাহারভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন, বার্মাশীল এলাকার উকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে সম্রাট ভূঁইয়া (৩০) ও স্বাধীন ভূঁইয়া (২৫), মকবুল হোসেন বাবু (৩৫), মো. সাদ্দাম (৩০), মো. সুমন (৩৫), মো. ইফরান (৩০) এবং আল-আমিন (৩০)। এছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৭-১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সুমিলপাড়া এলাকার ফারুকের দোকানের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন নাদিম, ইমন ও তাদের কয়েকজন বন্ধু। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিহারী ক্যাম্প এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন সম্রাট। এ সময় ওই ব্যক্তি আর্তচিৎকার শুরু করলে নাদিম ও ইমনরা এগিয়ে গিয়ে তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সম্রাট ও স্বাধীন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২-৩টি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় ২০ থেকে ২৫ জন একদল সশস্ত্র যুবক তাদের ঘিরে ফেলে। কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে ভুক্তভোগীরা এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত সম্রাট ভূঁইয়ার নির্দেশে দুর্বৃত্তরা ধারালো চাপাতি, রামদা, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হত্যার উদ্দেশ্যে সম্রাট তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে নাদিমের মাথায় কোপ দেন। তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাড়ের পেছনে ও কানের নিচে লেগে তিনি মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় নাদিমকে বাঁচাতে প্রতিবেশী ইমন এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। রামদার কোপ ঠেকাতে গিয়ে ইমনের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি মারাত্মকভাবে কেটে যায় এবং গলার রগ প্রায় কাটার উপক্রম হয়।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার সময় তারা বীরদর্পে হুমকি দিয়ে যায়, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা করলে পরবর্তীতে পরিবারের সবাইকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।
আহতদের পরিবার জানিয়েছে, বর্তমানে নাদিম ও ইমন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এদিকে আসামিদের এমন প্রকাশ্য হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন মামলার বাদী মিতু আক্তার ও তার স্বজনরা।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।