প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩১, ২০২৩, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
১৪ দলের সমাবেশে মারামারি, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহত
চট্টগ্রাম নগরীতে ১৪ দলের গণসমাবেশে কয়েক দফা চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩১ মে) বিকেলে নগরীর কোতোয়ালী থানার লালদিঘী এলাকায় জেলা পরিষদ চত্ত্বরে সমাবেশস্থলে এ ঘটনা ঘটেছে। নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজকেন্দ্রিক দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গণসমাবেশের মঞ্চে ১৪ দলের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খোরশেদ আলম সুজন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ নেতারা ছিলেন।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, সমাবেশ শুরুর পর একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। এর মধ্যেই হঠাৎ চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়িতে লিপ্ত হতে দেখা গেছে মঞ্চের বিপরীতে বসে থাকা কর্মীদের, যাদের অধিকাংশ তরুণ-যুবক। এর মধ্যেই ছোঁড়া ইটের আঘাতে আহত হন নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী। খোরশেদ আলম সুজন মঞ্চ থেকে নেমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপরও দফায়-দফায় মারামারিতে লিপ্ত হন কর্মীরা। এর ফলে গণসমাবেশের কার্যক্রম প্রায় আধাঘন্টা বন্ধ ছিল।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে মারামারিতে লিপ্ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘যারা মারামারি করেছে, তারা মারামারির উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছে। মারামারি করতে আসলে লালদিঘী মাঠে আসেন। মারামারি করার ব্যবস্থা আমরা করে দেব। সমাবেশ মারামারি করার জায়গা নয়।’
আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘যারা সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হতে পারে না। বড় সংগঠনে পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। তাই বলে একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়াতে পারি না। আমরা সবসময় এটা বলি। তবুও অনেকে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসেন। ষড়যন্ত্র করেন। মিছিল নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা করেন। এরা অনুপ্রবেশকারী। যারা এগুলো করেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’
মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন ইমু বলেন, ‘১৪ দলের সমাবেশ পণ্ড করতে পরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা মিছিলে ঢুকে সমাবেশে এসে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ইট-পাটকেল ও চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু করে। উসকানি দিয়ে তারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে জড়াতে বাধ্য করেছে।’
কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আরমান হোসাইন বলেন, ‘দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, ‘সমাবেশস্থলে আলাদা মিছিল নিয়ে প্রবেশের পর পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওমরগণি এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু এবং ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং পরে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী মাথায় আঘাত পান। এরপরও আর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এবং সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে।’
bojrodhoni